প্রতিদিনের ডেস্ক:
একদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন নাটকীয়ভাবে কমছে, তখন ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেলো প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ইরান যুদ্ধের আবহে গত ১১ দিনে চতুর্থবারের মতো দেশটিতে বাড়লো পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সোমবার (২৫ মে) নতুন করে লিটারপ্রতি তেলের দাম বেড়েছে দুই রুপিরও বেশি। এর ফলে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রলের দাম সেঞ্চুরি পার করে ১০২ রুপি ছাড়িয়েছে।
অথচ সোমবার (২৫ মে) সকালেই বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে। চলতি মাসে এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামল।ভারতের বড় শহরগুলোতে নতুন দর সোমবার ভারতে লিটারপ্রতি পেট্রলের দাম বেড়েছে ২ রুপি ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ রুপি ৭১ পয়সা। এর আগে, গত শনিবারও দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
পেট্রলের নতুন দাম (লিটারপ্রতি):
নয়াদিল্লি: ১০২.১২ রুপি (বেড়েছে ২.৬১)
কলকাতা: ১১৩.৫১ রুপি (বেড়েছে ২.৮৭)
মুম্বাই: ১১১.২১ রুপি (বেড়েছে ২.৭২)
চেন্নাই: ১০৭.৭৭ রুপি (বেড়েছে ২.৪৬)
ডিজেলের নতুন দাম (লিটারপ্রতি):
নয়াদিল্লি: ৯৫.২০ রুপি (বেড়েছে ২.৭১)
কলকাতা: ৯৯.৮২ রুপি (বেড়েছে ২.৮০)
মুম্বাই: ৯৭.৮৩ রুপি (বেড়েছে ২.৮১)
চেন্নাই: ৯৯.৫৫ রুপি (বেড়েছে ২.৫৭)
এদিন নয়াদিল্লিতে সিএনজির দামও কেজিপ্রতি এক রুপি বাড়িয়ে ৮১ দশমিক ০৯ রুপি করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর দ্বিগুণ চাপ
ভারতে জ্বালানি তেলের এমন দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি আগে থেকেই মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহন খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এর আগের দফায় দাম বাড়ার কারণে বাজারে এরই মধ্যে দুধ এবং পাউরুটির দাম বেড়ে গেছে।
ভারতে কেন বাড়ছে তেলের দাম
চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এতদিন চড়া ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ দুই মাস ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনলেও ভারতের বাজারে পুরোনো দামেই বিক্রি করছিল।কিন্তু এই বিপুল লোকসান সংস্থাগুলোর জন্য এখন আর সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই। হিসাব অনুযায়ী, এই তিন সংস্থা মিলে প্রতিদিন এক হাজার কোটি রুপির বেশি লোকসান গুনছিল। ফলে সরকারকে বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, ভারতে ২০২২ সালের এপ্রিলের পর তেলের দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় দাম বাড়াতে শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ট থর্নটন ভারতের তেল ও গ্যাস খাতের অংশীদার সৌরভ মিত্রের মতে, ভবিষ্যতে হয়তো বাজার সামাল দিতে দাম আবারও সমন্বয় করতে হতে পারে। তবে সরকারকে অবশ্যই তেল সংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার ওপর এর প্রভাবের বিষয়টিও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বিবেচনা করতে হবে।

