১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দে রণক্ষেত্র ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ৪১৬

প্রতিদিনের ডেস্ক:
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)-এর শিরোপা জয়ের পর ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাতভর ফুটবল ভক্ত ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর ফ্রান্সজুড়ে চার শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর বিবিসির।সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৩০ মে) রাতের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালকে কেন্দ্র করে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বড় শহরগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামাতে হয় হাজার হাজার দাঙ্গা পুলিশ। তা সত্ত্বেও রাজধানী প্যারিসে বাস, ট্রেন ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার (৩১ মে) ভোররাত পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল প্যারিস থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮০ জনকে।পেনাল্টি শুটআউটে পিএসজির ঐতিহাসিক জয়ের পরপরই প্যারিসের বিখ্যাত শঁজেলিজে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উচ্ছৃঙ্খল জনতা রাস্তায় একের পর এক ফ্লেয়ার ও আতশবাজি ফোটাচ্ছে, মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং অন্তত একটি বড় শোরুমের কাঁচ ভাঙচুর করেছে।এর আগে খেলা চলাকালীন পিএসজির পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামের বাইরে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গেও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করতে হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতায় অন্তত ৬টি গাড়ি, ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি বাস শেল্টার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।চলতি ২০২৬ সালের এই শিরোপা পিএসজির জন্য টানা দ্বিতীয় জয় হলেও, এটি ফ্রান্সে ফুটবল-কেন্দ্রিক সহিংসতারও টানা দ্বিতীয় বছর। এর আগে ২০২৫ সালে পিএসজির ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের উদযাপনও রক্তাক্ত রূপ নিয়েছিল, সেসময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। এবারও সহিংসতা থামাতে গিয়ে অন্তত সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস এই সহিংসতাকে ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরাসি রাজনীতিতে কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি নেত্রী মারিন লে পেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘কেবল ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার জন্ম দেয়। সবাইকে বিজয়ের সন্ধ্যায় সহিংসতা এড়াতে নিজেদের ঘরে বন্দি রাখতে বাধ্য হতে হয়।”সহিংসতার এই থমথমে পরিস্থিতির মাঝেই রবিবার বিকেলে পিএসজি খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। আইফেল টাওয়ারের পাশের শঁ-দ্য-মার্স এলাকায় এই প্যারেড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো এলিসি প্রাসাদে চ্যাম্পিয়ন দলটিকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেবেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়