প্রতিদিনের ডেস্ক:
ফুটবলের মাঠে ইঞ্চি-সেন্টিমিটারের চুলচেরা বিশ্লেষণ আর অফসাইডের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিতর্কের দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। গতি ও নির্ভুলতার এক অদ্ভুত যুগলবন্দি নিয়ে মাঠে নামছে উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি (এসএওটি)। আগের প্রযুক্তিতে ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড হলে রেফারিরা সংকেত পেতেন। কিন্তু এবার সেই সীমারেখা নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১০ সেন্টিমিটারে। কোনো ফুটবলার যদি মাত্র ১০ সেন্টিমিটারও অফসাইড পজিশনে থাকেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে সহকারী রেফারির কানে চলে যাবে অডিও সতর্কবার্তা। ফলে আক্রমণ শেষ হওয়া পর্যন্ত চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকার চিরচেনা দৃশ্যটি আর দেখা যাবে না। তবে প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে না মানুষের নিয়ন্ত্রণ; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি থাকছে মাঠের রেফারির হাতেই। দর্শকদের জন্য থাকছে চরম রোমাঞ্চ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ম্যাজিকে প্রতিটি অফসাইড সিদ্ধান্তকে ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনে রূপ দেওয়া হবে। এজন্য বিশ্বকাপের ৪৮ দলের ১ হাজার ২৪৮ ফুটবলারের শরীর স্ক্যান করে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল ডাটাবেজ। শুধু অফসাইডই নয়, নিখুঁত সিদ্ধান্তের পসরা সাজাতে মাঠে থাকছে ‘স্মার্ট বল’। বলের ভিতরের বিশেষ চিপ নিমিষেই জানিয়ে দেবে বল মাঠের বাইরে গেছে কি না কিংবা সর্বশেষ স্পর্শটি কার ছিল। প্রযুক্তির এ মহাবিপ্লব ২০২৬ বিশ্বকাপকে কতটা বিতর্কহীন আর গতিময় করে তোলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

