প্রতিদিনের ডেস্ক:
শ্যাওলা অভিমান
এপারে ধূলোর স্তব্ধতা, ছায়া নামে নিঝুম
চোখের পাতায় আটকে গিয়েছে এক ফালি ভাঙা ঘুম।
ওপারে তোমার নির্জন হাত, স্নিগ্ধ সুবাস মাখা,
মাঝখানে এক অলীক দেয়াল, সযতনে ঢেকে রাখা।
রক্তের ভেতর বিমূর্ত এক নদী বয়ে যায় একা,
জলের আয়নায় দেখি না তো আর তোমার মুখের ছায়া!
তোমার আঙুলে সন্ধ্যার রোদ, আমার কপালে রাত,
দীর্ঘশ্বাসে ভিজে ওঠে আজ পথভ্রষ্ট দুই চোখ!
বাতাসের পিঠে চিঠি লিখে পাঠাই শূন্যের ওপারে,
হৃদয় খুঁড়লে দেখা মেলে শুধু বিষণ্ন আঁধার।
মৌন পাথরে শ্যাওলার মতো জমে আছে অভিমান,
এপার-ওপার ভাগ করে দেয় এক অস্পষ্ট আঘাত!
স্মৃতির অরণ্যে পথ ভুলে আমি ফিরে আসি বারবার,
অচেনা তৃষ্ণা বুকে নিয়ে ঘুরি নামহীন হাহাকার।
তুমি কি ওপারে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখো কি তবে একা?
নাকি কুয়াশায় মুছে যায় সব স্বপ্নের শেষ দেখা!
তীর ভাঙা এই বেদনার চোরাবালি বুকে ধরে রাখি,
দূরত্বের নীল গহ্বরে মোরা বন্দি দুখানি কফিন!
নিঃস্বতায় চিহ্নহীন
ঝরেছিল ফুল অকাতরে,
যেন রাষ্ট্রহীন কোনো প্রেমিকার ছিন্ন স্তন থেকে!
রক্ত ঝরে পড়ে মধ্যরাতের প্ল্যাটফর্মে!
আমি ডেকেছিলাম তোমায়,
হিংস্র শেয়ালের মতো ক্ষুধার্ত আর্তনাদে!
আর তুমি
অন্ধ ট্রেনের শব্দ হয়ে,
হারিয়ে গেলে ধোঁয়া আর অমানিশার ঘোরে!জলে আগুন জ্বলে আজ,
নদীর বুকেও শুনি বারুদের তীব্র গন্ধ।
এই শহর প্রতারণা শেখায়,
ভালোবাসাকে বানায়
স্টেশনের দেয়ালে সাঁটা পুরোনো বিজ্ঞাপন।
ক্ষত শুকিয়ে গেলে মানুষ বাঁচে না,
ডানা ভেঙে গেলে আকাশও অচেনা!
স্টেশনের বাতাসে ভেসে আসে কারো শেষ নিঃশ্বাস,
কেউ ফিরে আসে না
শুধু অপেক্ষারা পড়ে থাকে
ভাঙা বেঞ্চের ওপর মৃত ভিখিরি হয়ে।
তুমি বলেছিলে ফিরবে,
কিন্তু প্রতিশ্রুতিগুলোও একদিন
রেলের লাইনে কাটা পড়ে মারা যায়।
ঝরে পড়ে ফুল,
ঝরে পড়ে স্বপ্ন,
ঝরে পড়ে মানুষের ভেতরের ঈশ্বরও।
ট্রেন এসে নিয়ে গেল সব
কৈশোর, প্রেম, বিপ্লব, বিরহ!
লোহার শব্দে হারিয়ে যায় কান্না আর
শিউলি-ভেজা ফুল!
হৃদয়ের ভেতর আজও শুধু,
তোমার লেখা নাম!
বেঁচে থাকে তবু ভস্ম জীবন,
নিঃস্বতায় চিহ্নহীন!

