অনন্ত পৃথ্বীরাজ
সুরতহাল তরজমা
পেছনে তাড়া করে চক্রবূহ্য শূল
বৈদ্যুতিক পাখা অবিরত ঘুরছে
প্রেমের ফাঁদে আজ ভালোবাসা
গলায় আটকে যায় নিয়তির ফাঁস।
কী রিপোর্ট দেবে ইন্সপেক্টর?
গৎবাঁধা ধারাপাতে থমকে গেছে—মানবিক মেঘ।
প্রাণহীন দেহ যদি ডেডবডি হয়
তবে হৃদয়হীন শরীরকে কী বলা যায়?
অদ্ভুত
বিষাক্ত সাপের ভয়ে চুপসে যাওয়া
মুখখানি দেখি,
চোখ তার জলপাইয়ের মতোন।
ক্লান্ত দিনের জড়তা
লেগে আছে অবশ শরীরে—
তারপরও তাড়া খাওয়া
মুরগির মতো শুধুই লাফায় ।
অনন্ত পৃথ্বীরাজের একগুচ্ছ কবিতা
জাতিসত্তা
নগরকোলাজের ভাঁজে ভাঁজে
লুকিয়ে থাকে বিচিত্র বিষয়-আশয়,
বিপ্রতীপ দূরত্বে আমাদের অবস্থান
বেওয়ারিশ বিস্কুটের মতন—
আটপৌরে জীবন পার করছি ক্রমশ।
দেয়ালের গণ্ডি পার হলেই—
ফুটপাতের ওয়্যার ধরে যাওয়া যায় অলকায়।
কুবেরের জায়গা নয়,
সেখানে বাস করে দাঁড়িওয়ালা দরবেশ
যেখানে স্বর্গ আমাদের গুলমার্গ।
হাবিয়া থেকে প্রমোশন নিয়ে
সোজা চলে যাও—
গিরিনিস্রাবের পথে নিয়ন্ত্রণরেখা
অতিক্রম করার সাধ্য কার?
কাঁকড়াজীবীদের পথ কখনও ভুল হয় না—
বাকেরগঞ্জের ঠিকানায় নিউইয়র্ক টাইমস
সহস্র কথকতায় শিল্পরাগের মালাগাঁথে
আমাদের একজন নূরুলদীন হাঁকে,
‘জাগো বাহে, কোনঠে সবায়!’
বিবর্ণ ক্যানভাসে বিচ্ছেদের আলাপ
প্রিয়জন
কাকে যেন মনে পড়ে,
নস্টালজিয়া ঘিরে ধরে চারপাশ
পৌষি রাতের আঁধারে দস্যুর মতন
দশটি আঙুল নাড়াচাড়া করে
কোনো এক ষোড়শীর শরীর।
কাকে যেন মনে পড়ে তবুও
না বাবা, না মা—এদের কেউ নয়—
হ্যান্ডিকাট চুল, লকলকে একজোড়া চোখ,
লোল জিহ্বা কটিদেশ নাব্য পুরুষ—
কাকে যেন মনে পড়ে আজ!
কাকে যেন মনে পড়ে খুব।

