৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বিদেশি জাতের আম চাষ করে আলোচনায় অভয়নগরের আসাদ

মিঠুন দত্ত, অভয়নগর
মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে সারি সারি আমগাছ। তবে এগুলো সাধারণ কোনো আমবাগান নয়। কোথাও ঝুলছে গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙের জাপানি মিয়াজাকি, কোথাও থোকায় থোকায় চিয়াংমাই, ব্রুনাই কিং কিংবা ব্ল্যাক স্টোন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন বিদেশি কোনো ফলের প্রদর্শনী। অথচ এই ব্যতিক্রমী বাগান গড়ে উঠেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলার এক ঘেরের পাড়ে। এই স্বপ্নের বাগানের উদ্যোক্তা নওয়াপাড়া পৌরসভার বাসিন্দা আসাদুর রহমান। শখ থেকে শুরু হলেও আজ তা পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় একটি বাণিজ্যিক উদ্যেগে। প্রায় দুই শতাধিক দেশি-বিদেশি আমগাছ নিয়ে গড়ে তোলা বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে নানা রঙের আম। বিশেষ করে মিয়াজাকি আমের লালচে-বেগুনি আভা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে সবচেয়ে বেশি। আসাদুর রহমান জানান, প্রচলিত ফল চাষের বাইরে কিছু ভিন্নধর্মী করার ইচ্ছা থেকেই বিদেশি জাতের আম সংগ্রহ করে বাগান গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে বাগানে প্রায় ২০ প্রজাতির দেশি ও বিদেশি আম রয়েছে। এসব আম দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি বাজারমূল্যও বেশ ভালো। তিনি বলেন, “শুরুর দিকে অনেকেই বিষয়টিকে কৌতূহল হিসেবে দেখতেন। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসছেন। বিদেশি জাতের আমের মধ্যে মিয়াজাকি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছি।” বাগান দেখতে আসা ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক বলেন, “একই বাগানে এত ধরনের আম আগে কখনও দেখিনি। ঘেরের পাড়ে এমন পরিকল্পিত বাগান সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। ফলের পাশাপাশি এটি এখন একটি দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, আসাদুর রহমানের উদ্যোগটি এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের আম চাষ করে তিনি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘেরের পাড় ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের ফলচাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কার্যকর উপায় হতে পারে।” প্রচলিত কৃষির গণ্ডি পেরিয়ে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান দিয়েছেন আসাদুর রহমান। তার ঘেরপাড়ের রঙিন আমবাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, বরং উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়