৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যমজ কন্যা হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেনমোহর মেটাতে সন্তান বিক্রি!

মহেশপুর সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন এবং সন্তান বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে দেনমোহর পরিশোধের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নতুন কোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী রিনা খাতুন (২২) নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। রিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুল ও রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ছয় মাস পর আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে জানার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। রিনার অভিযোগ, ওই সময় থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে জোর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তার কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রিনা দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশু দুটির বয়স প্রায় দেড় মাস হলেও তাদের দেখতে আসেননি স্বামী বা তার পরিবারের কেউ। এমনকি সন্তানদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিনা বলেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াই নাকি আমার অপরাধ। এই কারণেই আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বলছে, জমজ সন্তান বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আমার কাবিনের টাকা পরিশোধ করবে। স্থানীয়রা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে রাকিবুল ও তার পরিবার রিনা এবং নবজাতক সন্তানদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরে রিনার কাছে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই রাকিবুল ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া বা নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ও তার পরিবার নবজাতক দুই কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়