৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু নোভা হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের নোভা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ক্ষুব্ধ স্বজনদের হামলায় কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শংকরপুর চৌদ্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৭০) ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন। গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ঢাকা মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন। পরে তাকে হাসপাতালের ৬০৫ নম্বর কেবিনে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার ভোরে ব্যথা অনুভব করলে কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে নাসিমা খাতুন মারা যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারজিয়া তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার পরই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।
হামলায় সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনুপ কুমার রায়, ডা. মো. মনিরুজ্জামান এবং দুইজন নার্স আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে মৃত রোগীর স্বামী পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জোহরের নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়। হাসপাতালের ম্যানেজার রিয়াজ হোসেন বলেন, রোগীকে ব্যথানাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। তিনি জানান, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না। এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, “রোগীর চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি। তাকে নিয়ম অনুযায়ী ব্যথানাশক ও গ্যাস প্রতিরোধক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। রোগীর স্বজনরা ডিস্টিল ওয়াটারসহ ব্যবহৃত সামগ্রী দেখে চারটি ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ করছেন, যা সঠিক নয়।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোগীটি তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। হামলার ঘটনায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। এদিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শেখ ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়