৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মনিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মনিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ময়নাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী হেলাল হোসেন হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। জমিজমা ও নগদ টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তসলিমা কেউ হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হেলাল। শুক্রবার সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা আসামির এ জবানবন্দী গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আটক হেলাল হোসেন মনিরামপুরের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সৎ পিতা রফিকুল ইসলাম যশোর সদরের রামনগর গ্রামের মৃত আকবর হোসেনের ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা জানান, নিহত তাসলিমা আক্তার ময়না মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে। তাসলিমার নামে থাকা তিন শতক জমি এবং নগদ দুই লাখ টাকা গ্রহণসংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্প ফেরত নেওয়া ও জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে তাকে প্রায়ই মারধর ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাসলিমা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১১ জুন রফিকুল ইসলামের বাড়ির উঠানে বসে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তাসলিমাকে হেলাল হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ব্যবহৃত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় হেলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম পরস্পরের সহযোগিতায় ঘটনাটি সংঘটিত করেন। পরে আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার হেলাল হোসেনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুকুর থেকে ওড়নাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়