গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠিত, সনদ পেলেন ১৪৫ পাঠক-শিক্ষার্থী

প্রতিদিনের ডেস্ক
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের নির্বাচিত বেসরকারি গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “একসময় বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ভাগ্যান্বেষণে বাংলায় আসত। সঠিক নেতৃত্ব ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারলে সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব। আর জ্ঞান অর্জনের জন্য বইয়ের প্রতি ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই।”সভাপতির বক্তব্যে সচিব কানিজ মওলা বলেন, জনসাধারণের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের বইয়ের কাছেই ফিরে যেতে হবে। বই মানুষে মানুষে সেতুবন্ধন তৈরি করে।”
গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠিত, সনদ পেলেন ১৪৫ পাঠক-শিক্ষার্থী
জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ক’ বিভাগ এবং কলেজ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘খ’ বিভাগ গঠন করা হয়। ‘ক’ বিভাগের জন্য হুমায়ূন আহমেদের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ এবং ‘খ’ বিভাগের জন্য জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নির্ধারিত পাঠ্য হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগার থেকে মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮, ৯ ও ১০ জুন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের মৌখিক উপস্থাপনা ও অনুভূতি গ্রহণ করা হয়।
বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘ক’ ও ‘খ’—দুই বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ১০ জন করে মোট ২০ জনকে সেরা পাঠক-শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ২০ জন সেরা পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ৩ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড এবং একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ১ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ও একটি সনদপত্র দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়