বৃহস্পতিবার লি কিয়াং, শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

প্রতিদিনের ডেস্ক:
চীন সফরে বেইজিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দেশটির রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।এসব বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।মাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) চীনের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল’-এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।পরে প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন।এরপর আগামী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকালে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চীনের ৮০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এ ছাড়া আনোয়ারা ও মোংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর আগে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী খনন ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় কারিগরি সহযোগিতা চান। চীনা মন্ত্রী এসব খাতে যৌথভাবে কাজ করার এবং গবেষণায় সহায়তার ইতিবাচক আশ্বাস দেন।রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।মাহদী আমিন বলেন, ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাতটি সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে অটল থেকে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে বদ্ধপরিকর।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়