ভাঙা সড়কে থমকে নওয়াপাড়া চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

মিঠুন দত্ত, অভয়নগর
যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ভরে গিয়ে সড়কগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন চালক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধোপাদী নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কটি ২০১০ সালে নির্মাণ করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ জায়গার পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। পাশাপাশি ধোপাদী ও সরখোলা গ্রামের মানুষ অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের জন্য এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়রা জানান, সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে রোগী নিয়ে যাতায়াত করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রায়ই সাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে বুইকরা সোনালী ব্রিকস থেকে বুইকরা হয়ে সরখোলা পর্যন্ত সড়কে। প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত এ সড়কটিও এখনও কোনো সংস্কারের মুখ দেখেনি। বড় বড় গর্তের কারণে অনেক সময় যানবাহন চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া পৌরসভার গোরস্থান সড়ক, বুইকরা বাঘাবাড়ি থেকে ধোপাদী সড়ক, জগোবাবুর মোড় থেকে ড্রাইভারপাড়া হয়ে মাছবাজার সড়ক, নওয়াপাড়া কলেজ রোড থেকে সিরাজকাঠী, রাজঘাট নতুন রাস্তা থেকে খেয়াঘাট, রাজঘাট জাফরপুর থেকে গাজীপুর এবং ভাঙাগেট থেকে ধোপাদী সড়কসহ অধিকাংশ রাস্তার একই বেহাল চিত্র। নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোডের পাশ দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখন পথচারীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা থেকে শান্তির মোড় পর্যন্ত ইটের সলিং সড়কের ইট উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে সড়কটির কিছু অংশ মেরামত করেছেন। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত নওয়াপাড়া পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এর আয়তন ২৫ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৩২৪ জন। তবে নাগরিকদের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা থাকলেও সেবার মান এখনো তৃতীয় শ্রেণির মতো। ভ্যানচালক ওলিয়ার রহমান বলেন, “সরখোলা থেকে ধোপাদীর সড়কে ভ্যান নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। যাত্রী নিয়ে যাওয়া যায় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।” নওয়াপাড়া মহিলা কলেজের প্রভাষক হাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “কলেজ রোড থেকে সিরাজকাঠী পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।” নওয়াপাড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম কুমার বোস বলেন, “পৌরসভার অনেক সড়কই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আগামী বছর বড় কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কগুলো সংস্কার করা হবে।” পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দিপু বলেন, “পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে।” দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন নওয়াপাড়াবাসী। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এসব সড়ক এখন শুধু জনদুর্ভোগই নয়, বরং দুর্ঘটনারও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়