তাহমিনা আক্তার
যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার (১৭ মার্চ) যশোরের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু কিশোরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এদিন সকালে প্রথমে শহরের বকুলতলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর আহসান হাবীব, সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, পৌর মেয়র হায়দার গনী খান পলাশ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, জেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগ।
ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সরকারি এমএম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিনা খাতুন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনতোষ বসুসহ নেতৃবৃন্দ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যশোর মেডিকেল কলেজ, ডা.আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, উপশহর কলেজ, জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এমএসটিপি স্কুল এন্ড কলেজ, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড স্কুল এন্ড কলেজ, মুসলিম একাডেমি, সম্মিলনী ইনস্টিটিউট, যশোর কলেজ, হামিদপুর আল-হেরা কলেজ, মশিয়ার রহমান ল’কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল, ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি স্কুল, আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আঞ্জুমান আরা একাডেমি, জেলা শ্রমিক লীগ, বিএমএ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ এম এম কলেজ শাখা, ছাত্রলীগ সিটি কলেজ শাখা, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ, উপমহাব্যবস্থাপক টেলিকম, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, জেলা মাদকনিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, এল.জি.ই.ডি, জেলা ডাক বিভাগ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গণপূর্ত, সামাজিক বন বিভাগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, বিমানবন্দর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, জয়তী সোসাইটি, জেলা জাসদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িককালে তিনি একা নন, আরও অনেক বাঙালি নেতা ছিলেন, তারাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। কিন্তু একমাত্র বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের ১৪ টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। কাজী নাবিল আহমেদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যে যেখানে আছি প্রতিটি মানুষকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে হবে। শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন। আর তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশুদের আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, পৌরমেয়র হায়দার গনী খান পলাশ, সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক রায় ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু। স্বাগত বক্তৃতা করেন য জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সৌভিক দাস স্বচ্ছ। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন, দেয়ালিকা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু কিশোরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

