আনিছুর রহমান, বেনাপোল
যশোরের শার্শা থানায় এক মাদরাসা ছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্যক্ত করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মো. মোস্তফা কামাল (৫৬) বাদী হয়ে এই অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত মো. মোমিনুর ইসলাম (৫৫), যিনি সামটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত, দীর্ঘ দিন ধরে বাদী মো. মোস্তফা কামালের কন্যাকে মাদরাসায় পড়াকালীন বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করানোসহ নানা ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হতো। বাদী অভিযোগে জানান, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকার সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মোমিনুর ইসলাম বাদীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মেয়ের নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ছাত্রীর শয়নকক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ছাত্রী বাধা দিলেও অভিযুক্ত তাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে বাদী এ বিষয়ে কথা বলতে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত মোমিনুর ইসলাম তার মেয়ের নামে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) ইস্যু করে মাদরাসা থেকে নাম কেটে দেন। অভিযোগকারী জানান, অন্যায়ভাবে তার মেয়ের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করা হয়েছে এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে মো. মোস্তফা কামাল শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ওসি মো. শামীমুল হক বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
