৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বই ছাপানো এনসিটিবির কাজ নয়: গণশিক্ষা সচিব

প্রতিদিনের ডেস্ক
বই ছাপানো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।তিনি বলেন, এনসিটিবির কাজ হলো কারিকুলাম তৈরি, পর্যালোচনা করা। বই ছাপানোর কাজটি প্রশাসনিক।বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতি বছর প্রাথমিক স্তরের ১০ কোটির বেশি বই ছাপানো হয়। সেই বই ছাপানোর কাজ এতদিন এনসিটিবি করে আসছে। এখন সেই বই ছাপানোর কাজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ছাপাতে চায় মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি মিলেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই নিজেরাই ছাপানোর কাজ শুরু করবে।
এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, এনসিটিবির কাজ কারিকুলাম তৈরি, পর্যালোচনা করা। বই ছাপানোর কাজটি প্রশাসনিক। অন্যদিকে, এনসিটিবি প্রাথমিকের বই ছাপাতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ, সময় ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিকের বই ছাপানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়। সেই অর্থে এসসিটিবি বই ছাপায়।
তিনি জানান, প্রাথমিকের প্রতিটি বই ছাপানোর জন্য এনসিটিবিকে ২ টাকা ৬০ পয়সা করে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। সে হিসাবে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ কোটি সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বই ছাপালে এ টাকাটা সরকারের সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন, বইয়ের মান খারাপ হলে কখনও প্রাথমিক অধিদপ্তর, এনসিটিবি একে অন্যকে দোষারোপ করে। যেহেতু এনসিটিবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনের প্রতিষ্ঠান, তাই গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো তদারকি ও খবরদারি করতে পারে না। প্রাথমিক অধিদপ্তর বই ছাপার কাজটি করলে তদারকি ও মান রক্ষা করতে সহজ হবে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী আছে। তাদের জন্য প্রতিবছর ১০ কোটির বেশি বই ছাপানো হয়ে থাকে। ১৩ বছর ধরে ৯৮ লটে ৩০-৩২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বই মুদ্রণ করা হচ্ছে। এই বই নিয়ে ৮-৯ বছর ধরে নানান সিন্ডিকেট কাজ করছে। এ জন্য বইয়ের মুদ্রণ ও কাগজের মান নিয়েও প্রতি বছর প্রশ্ন উঠছে।
এসব বিতর্ক এড়াতেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই নিজেরাই ছাপানোর উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি চাওয়া হয়। প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী কিছু সংশোধনী পাঠান। সেগুলোর সংশোধন করে ফের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় দফার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সায় মিলেছে বলে জানান সচিব।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়