উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সোনার মোড়ে যমুনা নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ১৩৩ বছরের বারুণী পূজা, স্নানোৎসব ও মেলা। শনিবার শ্যামনগর উপজেলার সোনার মোড় নামক স্থানে যমুনা নদীর পাড়ে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাগম হয় হাজারো মানুষের। বারুণী মেলার চারিপাশে ঘুরে দেখা যায়, যমুনা নদীর বিপরীত পাশে থাকা ভাটার ক্যামিকাল মেশানো পুড়ানো কয়লার রাবিশ যমুনা নদীতে ফেলার কারণে ভরাট হয়ে আছে দর্শনার্থী সহ পূর্ণার্থীদের স্নান করার ঘাটের পাশে এবং অপর অংশে সোনার মোড় মাছের সেট(বাজার) পোল্ট্রি মুরগি পাখনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধে কালো ঘোলা জলে পূর্ণার্থীরা স্নান করতে পারিনি বলে অভিযোগ করেন। এমন কি যমুনা জল স্পর্শ ও করতে গন্ধে বমি করতে দেখা যায় মেলায় আসা বাদঘাটা গ্রামের সবিতা বালাকে। সবিতা বলেন, বারুনী স্নান করতে জল দেখে নামতে পারলামনা মাথায় যে দেব কালো জল মুরগীর পাখনা পঁচা গন্ধে বমি করে ফেলছি। এবিষয়ে বারুণী মেলার আয়োজক বরুণ ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাদার হাতে প্রতিষ্টিত যমুনা পাড়ে বারুনী মেলা কেন্দ্র করে উপজেলার হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা আসে যমুনার পবিত্র জলে স্নান করতে কেও আবার মাথায় সিটিয়ে দেয় পুণ্যের আশায় কিন্তু এবছর দেখেন ভাটার কয়লার রাবিশ ফেলে যমুনা নদী প্রায় ভরাট করে দিয়েছে। সাথে প্রতিদিনের সোনার মোড় বাজারের পোল্টি মুরগির পাখনা বর্জ্য ফেলে কালো পঁচা জলে এবার আর কেউ স্নান করতে পারেনি। আমি মানা করলেও কেউ শুনেনা আমার কথা, শতবর্ষী পার করা এই মেলা টিকিয়ে রাখা বড় দ্বায়। তিনি আরো বলেন,‘আমি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হক দোলন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষক সাঈদ-উজ-জামান সাঈদ, জেলা পরিষদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বাংলা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা ডলি, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড.শোকর আলী আসছিলেন। তাদের সরেজমিন সব দেখিয়েছি। এমপি সাহেব দেখে সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসে ফোন দিয়েছিলেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন সোমবার সরেজমিন এসে ব্যাবস্থা নিবে। সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হক দোলন বলেন, আমরা ছোটবেলায় এই মেলায় বেড়াতে আসতাম, অনেক মজা করতাম অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। খুব দ্রুতই এর সমাধান করা হবে। যাতে করে ভক্তরা আবারও বারুণী পূজায় যমুনা নদীতে স্নান করতে পারে। বারুণী পূজা ও মেলা পরিদর্শন করেন, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক অনাথ মন্ডল, যুগ্ন আহবায়ক হিন্দু বিবাহ রেজিস্টার সুজন কুমার দাশ, সদস্য সচিব উৎপল মন্ডলসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।

