সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গত ২ দিনের বৃষ্টিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৮টি বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। সুরমা নদী-তীরবর্তী সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চলও পানিতে তলিয়ে আছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, আবাদি জমিসহ ফসলের ক্ষেত। ব্যাপক ক্ষতি হয় ফসলের। উজানের নেমে আসা ঢলের পানি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয় সতর্কতা। এটা আমাদের জন্য শঙ্কার ব্যাপার বৈকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ- এই চার উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। গত রবি ও সোমবারের কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে সিলেট নগরীর বেশ কিছু এলাকা। সড়ক উপচে পানি ঢুকে পড়েছে মানুষের বাসাবাড়ি-দোকানপাটে; এমনকি হাসপাতালেও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ভারি বর্ষণের কারণে চলতি জুন মাসে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলে প্রতি বছর যে বন্যা হয়, এবার তা ব্যাপক আকারে রূপ নিতে পারে বলে অভিমত আবহাওয়াবিদদের। বাংলাদেশের উজানে ভারতের রাজ্যগুলোতেও বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে আগামী বর্ষায় দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিষয় সামনে আসছে। এবার যে বন্যা হতে পারে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে, তার আভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে। হিমালয় পাদদেশ, চীন, তিব্বত, নেপাল, ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অরুণাচল, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর ও মিজোরামে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এসব অঞ্চলে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এর স্রোত যে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসবে, তাতে সন্দেহ নেই। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি উপচে বন্যার পদধ্বনি কেবল নয়, এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য দুর্ভাবনার। সামনে বন্যার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা আমলে নিয়েই সরকারের এখন থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো আমাদের সাধ্যাধীন নয়। তবে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নদী ভরাট হওয়ার কারণে যেমন বেড়েছে ভাঙন, তেমনি সামান্য ঢলে দুকূল উপচে আকস্মিক বন্যা ঘটায়। নদ-নদীর নাব্য রক্ষা করে একদিকে যেমন বন্যার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তেমনি সম্ভব ভাঙন ঠেকানো। আমরা জানি ড্রেজিং নিয়ে সরকারের ‘মহাপরিকল্পনা’ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের খুব বেশি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বন্যার সময় বাঁধ একটা বড় আশ্রয়স্থল। যেভাবে বাঁধ ভাঙছে, তাতে সব বাঁধকে এখন নিরাপদ আশ্রয় মনে করা যাচ্ছে না। তারপর রয়েছে খাদ্য সংকট। আমরা আশা করছি, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার সংস্থান করবে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবাও প্রস্তুত রাখা দরকার। সরকার ও প্রশাসন এ বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে- এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
সারাদেশে বন্যার পূর্বপ্রস্তুতি দরকার
Previous article
Next article
আরো দেখুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা
দেশের অর্থনীতিতে চলছে খরা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে প্রায় অচলাবস্থা। ঋণের অভাবে বেসরকারি খাত রীতিমতো ধুঁকছে। এমন সংকটকালে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল...
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, তা সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্য নিহতের খবরে অনেকটা বেরিয়ে এসেছে। প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণ, খুনখারাবি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের...

