রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের ইজিবাইক চালক পলাশ মোল্যাকে অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুম করার অপরাধে ৩ জনের ফাঁসির আদেশসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আলমাচ হোসেন মৃধা এই দন্ডাদেশ দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামের মৃত আবুল খায়ের মোল্যার ছেলে আনারুল মোল্যা,জয়পুর ইউনিয়নের মরিচপাশা গ্রামের মৃত মোক্তার সরদারের ছেলে জিনারুল সরদার ওরফে তারা মিয়া এবং নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আকুব্বার শিকদারের ছেলে নাজমুল শিকদার। রায় ঘোষণাকালে জিনারুল সরদার ওরফে তারা মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামী আনারুল মোল্যা ও নাজমুল সিকদার পলাতক রয়েছে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ জুন সকালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের আব্দুস সালাম মোল্যার ছেলে পলাশ মোল্যা (২৫)কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পার্শ¦বর্তী গ্রামের আনারুল মোল্যা, জিনারুল সরদার এবং নাজমুল শিকদার। তারা চল্লিশ হাজার টাকায় ইজিবাইক কিনে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে পলাশ মোল্যাকে অপহরণ করে এবং তাকে খুন করে লাশ পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার একটি পাটক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখে। ২৬ জুন মাগুরা জেলার পুলিশ সদর থানার ধানখোলা গ্রামের জাহাঙ্গীর এর পাটক্ষেত থেকে অজ্ঞাত হিসাবে ওই লাশ উদ্ধার করে। সেখানে তারা ময়না তদন্ত শেষে স্থানীয় গোরস্থানে কবর দিয়ে রাখে। ৮ জুলাই পলাশ মোল্যার পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে এবং জামা কাপড় ও ছবি দেখে পলাশের লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় পলাশের ভাই আহাদ আলী বাদী লোহাগড়া থানায় প্রথমে ভাই হারানোর জিডি এবং পরে অপহরণ করে হত্যা মামলা দায়েরকরে। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমান গ্রহন শেষে আদালত দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাবস্থ্য করে ৩ জনকেই ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদন্ড এবং দন্ডবিধির ৩৬৪ ধারায় দোষী সাব্যস্থ্য করে প্রত্যেককে ১০ বৎসর সশ্রম কারাদন্ড এবং দন্ডবিধির ২০১ ধারায় দোষী সাব্যস্থ্য করে প্রত্যেককে ১৪ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০,০০০/ টাকা করে জরিমানা দন্ডের রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী জিনারুল সরদার ওরফে তারা মিয়া উপস্থিত ছিলেন। অপর দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামী আনারুল মোল্যা ও নাজমুল সিকদার ইতিপূর্বে জামিনে থেকে পলাতক রয়েছে। নড়াইলের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ইমদাদুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পলাতক আসামীরা গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করলে উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের রায় কার্যকর হবে। মামলার বাদী পক্ষে ছিলেন সিনিয়র এ্যাডঃ শরীফ মাহাবুবুল করীম এবং আসামী পক্ষে ছিলেন সিনিয়র এ্যাডঃ তোজাম্মেল হক ও এ্যাডঃ কাজী বদরুল আলম।

