প্রতিদিনের ডেস্ক॥
বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো বলছে, গত কয়েকদিনে সহিংসতার ঘটনায় সারাদেশে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিউ এজ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন বলছে, গত তিন দিনে পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মাঝে রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক, সবাই আছে। যুগান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম বলছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ২,১০১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আবার সমকালের প্রতিবেদন বলছে, গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত অন্তত ১৫৯টি মামলায় ২,৭৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সারাদেশের যেসব স্থানে বেশি সহিংসতা ঘটেছে, তার মাঝে অন্যতম হল গাজীপুর। গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা জানিয়েছেন, গত দু’দিনে গাজীপুর মহানগরীর ৮টি থানায় মোট ২৮টি মামলা হয়েছে এবং এতে মোট গ্রেফতার হয়েছে ২৩৪ জন। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে জামায়াত বিএনপি’র নেতাকর্মী বেশি। আর কিছু গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তির পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে বলেনি পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তবে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মাঝে কিছু “শিক্ষার্থী থাকতে পারে, কিন্তু পুলিশ সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলছে না” বলে উল্লেখ করেন মি. রানা। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর সদর থানা ৪৫জন ডুয়েট শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে, এমন একটি খবর জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি। গাজীপুর সদর থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে থানার ওসি রাফিউল করিম বিবিসিকে বলেন, “ডুয়েট স্টুডেন্টকে আটক করবো কেন? ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সম্পৃক্ততায় আমরা ওই মামলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছি।” কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিলো। কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী জানান, গত পাঁচ দিনে ৭ মামলায় মোট ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তারা “সবাই বিএনপি-জামায়াতের সাধারণ কর্মী। তাদেরকে ওয়ার্ড বা ইউনিয়নভিউত্তিক তালিকা করে গ্রেফতার করা হয়েছে।” শিক্ষার্থীদেরকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আটককৃতদের মাঝে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী না থাকলেও বিএনপি জামায়াতের শিক্ষার্থীরা আছে।”
খুলনার স্থানীয় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী জানান, আন্দোলন চলাকালীন খুলনা “শান্ত” ছিল এবং সেখানে কোনও “সহিংসতা হয়নি”। তারপরও প্রায় ৭-৮টি মামলা হয়েছে। “গত রাতেও ৯জন গ্রেফতার হয়েছে। সবমিলিয়ে ৫০ জনের মতো গ্রেফতার হয়েছে।” রংপুরের স্থানীর সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুক জানান, সেখানে গত পাঁচদিনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ মোট গ্রেফতারকৃত’র সংখ্যা ১১৬ জন।সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিক আজহার উদ্দিন শিমুল জানান, চলমান আন্দোলনে পুলিশ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি মামলায় ১১০জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, বরিশালেও গতকাল সকাল পর্যন্ত ছয়টি মোট ৮৭ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। এইসব মামলার মোট আসামী সংখ্যা ১৩০ জন বলে জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে শিক্ষার্থী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা ওরা (পুলিশ) বলছে না।”

