৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নড়াইলে ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ আহত ২০ : পুলিশের ভ্যানে আগুন

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও এক বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক নারীসহ অন্তত ২০জন। আন্দোলনকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় আন্দোলনকারী, পুলিশ ও আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে এ সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধ দু’জন হলেন-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নড়াইল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি আল নাহিয়ান প্রিন্স (৩৫)। অপর গুলিবিদ্ধ গোলাম রসুল খান (৭০) সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের নাকশী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি কৃষক। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে নড়াইল-ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের সদর উপজেলার মাদ্রাসা ও মালিবাগ এলাকায় হাজার হাজার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা জমায়েত হন। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা শেখ রাসেল সেতু হয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে সেতুর পূর্বপাশে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছাত্র আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় বেঁধে যায় ত্রিমূখী সংঘর্ষ। পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও শর্টগান দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে। ত্রিমূখী সংঘর্ষ চলাকালে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আল নাহিয়ান প্রিন্স গুলিবিদ্ধ হন।এছাড়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুল , রুপালী বেগম , সৌরভ রায় ,মাহমুদুল হাসানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। পরে দুপুরে মাদ্রাসা বাজার এলাকায় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুবৃর্ত্তরা। এ সময় ৩ পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসা এলাকায় গিয়ে টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও শর্টগানের গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় বাড়িতে অবস্থান করা কৃষক গোলাম রসুল খান বুলেটবিদ্ধ হন। তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। তবে তাঁরা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেস, তা জানা যায়নি। সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি শেখ রিয়াজ মাহমুদ মিশাম দাবি করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হামলা চালালে প্রিন্স গুলিবিদ্ধ হন। নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টাকালে পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ১৫০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৬০ রাউন্ড টিয়ারশেলের গুলি বর্ষণ করা হয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে আমাদের ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়