৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোহাগড়ায় সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু ডাক্তার পুলিশ হেফাজতে

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রত্যাশা ক্লিনিকে সিজারের সময় শান্তা (২৩) নামে একজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া ও সিজার একজন ডাক্তার দিয়ে করানোর কারনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।এ ঘটনার পর ওই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের সরুশুনা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে শান্তাকে গত সোমবার সন্ধ্যায় লোহাগড়ার জয়পুর মোড়ে প্রত্যাশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। শান্তার মা লাভলী বেগম জানান, ভর্তির কিছুক্ষণ পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শান্তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

এসময় মিথুন বিশ^াস নামে একজন ডাক্তার নিজেই অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে সিজার করেন। সিজারের পর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু কয়েকঘন্টা কেটে গেলেও শান্তাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করেনি। বার বার শান্তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান ভালো আছে। এক পর্যায়ে জানানো হয়, শান্তা একটু অসুস্থ্য তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাম্বুলেন্সযোগে নড়াইলে নেওয়ার পথে তার শরীরে পুশ করা স্যালাইন একটুও যাচ্ছিলো না। এ্যাম্বুলেন্সে নেয়ার সময় শান্তার শরীর একটুও নড়েনি। ভুল অপারেশন করে শান্তাকে অপারেশন থিয়েটারে মেরে ফেলেছে। শান্তার মামা মুস্তাক অভিযোগ করেন, ক্লিনিকের মালিক সেলিম খরচ বাচানোর জন্য কোন অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার না এনে অনভিজ্ঞ ডাক্তার মিথুন বিশ^াসকে দিয়ে অজ্ঞানের ইনজেকশন দিয়ে সিজার করেছে। যার কারনে ভুল অপারেশনে তার ভাগ্নির অকাল মৃত্যু হয়েছে। পরে বুঝতে পেরেছি যে আমার ভাগ্নি অপারেশন থিয়েটারেই মারা গেছে।নড়াইল হাসপাতালে আসার সময় ওই ডাক্তারকেও সাথে নিয়ে আসি। পরে ডাক্তার পালানোর চেস্টা করলে আমরা আটক করে রাখি। আমরা এই ডাক্তারসহ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। তিনি আরো জানান , ডাক্তার মিথুন বিশ^াস সার্জারী বা গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না। এমবিবিএস পাস করেছে মাত্র কিন্তু বিসিএস এ টিকতে পারেনি। তার মতো একজন অনভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সিজার করে অকালে একটি মেয়েকে মেরে ফেলেছে। নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মোঃ আসিফ আকবর বলেন, শান্তা নামের ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে জরুরী বিভাগে আনা হয়েছিলো। হাসপাতালে আসার অন্তত আধাঘন্টা আগে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ বের করতে হলে ময়নাতদন্ত করতে হবে। নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, লোহাগড়ায় একটি ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় মিথুন বিশ্বাস নামে একজন ডাক্তারকে হাসপাতাল থেকে থানায় এনে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়