১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

২৩ দিন পর সিলেটে পাথর আমদানি শুরু

প্রতিদিনের ডেস্ক
বন্ধ থাকার পর অবশেষে সিলেট বিভাগের সব স্থলবন্দর ও স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে শুরু হয়েছে পাথর আমদানি।বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেটের সবকটি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আসা শুরু হয়েছে। এতে বন্দরগুলোতে ফের কর্মতৎপরতা বেড়েছে পাথর শ্রমিকদের।তামাবিল পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পাথর ও চুনাপাথর আমদানিতে শুল্ক (অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু) বাড়ানোর প্রতিবাদে গত ৭ জানুয়ারি থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রাখেন আমদানিকারকরা। এতে প্রায় অচলাবস্থা দেখা দেয় তামাবিলসহ বাকি বন্দরগুলোতে। বেকার হয়ে যান হাজার হাজার পাথর শ্রমিক। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) নগরীর উপশহরে কাস্টম অফিসে কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানিকারকরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পাথর আমদানিতে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ৭৫ সেন্ট কমানোর সিদ্ধান্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। পরে বুধবার সকাল থেকে পাথর আমদানি চালু করার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।
আমদানিকারকরা জানান, প্রতি টন পাথর ও চুনাপাথর সর্বোচ্চ ৮-১০ ডলারে তারা আমদানি করেন। তবে এ পাথরের ২০-৩০ শতাংশ নিম্নমানের থাকায় তা ফেলে দিতে হয়। তবুও গতবছরের জুলাই পর্যন্ত এনবিআর আমদানি মূল্য নির্ধারণ করেছিল পাথর ১১ ডলার ও চুনাপাথর সাড়ে ১১ ডলার। ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের পর ৭৫ সেন্ট বৃদ্ধি নির্ধারণ করে নতুন অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু দাঁড়ায় পাথরের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৭৫ ডলার আর চুনাপাথরের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ২৫ ডলার। এরপর ৪ জানুয়ারি আবারও অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১ দশমিক ২৫ ডলার বাড়িয়ে পাথরের ক্ষেত্রে ১৩ ডলার আর চুনাপাথরের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ৫০ ডলার নির্ধারণ করে চিঠি দেয় কাস্টম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট বিভাগের সব স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর ও চুনাপাথর আমদানি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেসময় জানিয়েছিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। যা গত ৮ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাবেক সভাপতি এমদাদ হোসেন, সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি আতিক হোসেন, অর্থ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্ত্তী, তামাবিল পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি লিয়াকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন ছেদু, ভোলাগঞ্জ পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি বশির আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিন্টু, ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টারস অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের সভাপতি ও সুনামগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক আহমেদ শাখায়াত সেলিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অরুন দাস প্রমুখ।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়