২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। সরকারের সামনএখনো অনেক চ্যালেঞ্জ প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। কোনো কোনোটি আরো কঠিন রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিনই ঘটছে বহু খুনের ঘটনা। সেই সঙ্গে বেড়েছে ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি। বাড়ছে হুমকি-ধমকি ও চাঁদাবাজির ঘটনা। পথে-ঘাটে মানুষ যেমন নিরাপত্তাহীন, তেমনি নিরাপত্তাহীন নিজের বাসার ভেতরেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় বৈঠক করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনে দেশে সহিংসতার ঘটনায় সাড়ে সাত শর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। খবর অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চিকিৎসক এ কে এম আব্দুর রশিদ (৮২) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুফিয়া রশিদ। একই রাতে রাজধানীর হাজারীবাগে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মারা গেছে শাহদাত হোসেন আকবর শান্ত (১৭) নামের আরেক কিশোর। শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আজিমপুরে এক বাসায় ডাকাতির পর মালপত্রসহ ওই বাসা থেকে এক শিশুকেও তুলে নিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে মোহাম্মদপুর থেকে সেই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় অপহরণকারীকেও। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে এলোপাতাড়ি গুলিতে ১৫ জন আহত হয়েছে। একই দিনে জয়পুরহাটে দিলিপচন্দ্র নামের এক অটোচালকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সবুজ নামের এক যুবকের আগুনে পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি লেক থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিল্পপতি জসিম উদ্দিন মাসুমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১২ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে নিশাত ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন সাভারের বিরুলিয়ায় গৃহবধূ শান্তনা বেগমকে সাত টুকরা করে হত্যা করা হয়। ১২ নভেম্বর শেরপুরে নিখোঁজের আট দিন পর সুমন মিয়া নামের এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত এক সপ্তাহে এমন অনেক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে অনেক থানায় হামলা হয়। অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট হয়। কয়েকটি কারাগারেও হামলা হয়। অস্ত্র লুটের পাশাপাশি অনেক অপরাধীও বের হয়ে যায়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর একটি দীর্ঘ সময় পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পুলিশের বহু গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় তাদের চলাচলেও সমস্যা রয়েছে। থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে। ফলে দেশব্যাপী অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।মানুষ নিরাপদে মান-সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। তাই সারা দেশে পুলিশি কর্মকাণ্ড দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। যৌথ অভিযানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। এর পরিধি আরো বাড়াতে হবে। যেকোনো মূল্যে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়