৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ময়লার ভাগাড়

রেজাউল করিম,লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরের মধ্যে উত্তরপাশে ১৯ শয্যার তিনতলা ভবন ও চিকিৎসকদের কোয়ার্টার। পূর্বে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়। পশ্চিমে চিকিৎসকদের কোয়ার্টার। এর মাঝখানেই হাসপাতালের মূল চত্বরের ফাঁকা জায়গায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। এখানে ফেলা হয় হাসপাতালের ও রোগীদের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা এবং মেডিকেল বর্জ্য। এগুলো পচে দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে এ অবস্থা চললেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কোনো উদ্যোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকিতে আছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের অন্যান্য কর্মী এবং রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মুকন্দ কুমার দাস বলেন, হাসপাতালের সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা এবং মেডিকেল বর্জ্য প্রায় এক বছর ধরে ওই স্থানে রাখা হয়। এগুলো ফেলানোর আর কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স জানান, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়টি পড়েছে মূল হাসপাতালের পাশে। তাই বাতাস হলেই হাসপাতালে অবস্থানকারী সকলেরই দুর্গন্ধ শুকতে হয়। বিভিন্ন রোগাক্রান্ত রোগীদের ব্যবহার করা ময়লাও সেখানে যাচ্ছে। বিভিন্ন রোগের জীবাণু সেখান থেকে ছড়াচ্ছে। সেখানে মশার উৎপাত বেড়েছে। দুর্গন্ধে হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাস করাও কষ্টকর হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি কুমড়ি গ্রামের ছোরাপ মোল্লা তাঁর শয্যার দক্ষিণ পাশের জানালা দেখিয়ে বলেন, ওই ময়লার দুর্গন্ধ মাঝে মধ্যেই জানালা দিয়ে আসে। বেশিরভাগ সময়ই দুর্গন্ধের দুর্ভোগ রোগীদের পোহাতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দিঘলিয়া গ্রামের শিপন বাইন নাক চেপে ধরে হাটতেছিলেন। তিনি বলেন, এ হাসপাতাল থেকে যত তাড়াতাড়ি সরতে পারি ততই ভালো। ময়লা পচা দুর্গন্ধ সহ্য করা কঠিন ব্যাপার। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী বলেন, এসব ময়লা আবর্জনা প্রতিদিন পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার কথা। পৌরসভাকে প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা কর দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে, অথচ ময়লা ফেলার দায়িত্বটুকুন তারা পালন করে না। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,হাসপাতালের সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও মেডিকেল বর্জ্য ওখানে রাখা হয়। দীর্ঘদিনের ময়লাগুলো পচে বিব্রতকর একটা অবস্থা হয়েছে। আগে পৌরসভা থেকে প্রতিদিনের ময়লা নিয়ে যেত। গত এক বছর পৌরসভা ময়লা না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি উপজেলার মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় অনেকবার বলা হয়েছে। এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহাকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র বলেন, লোহাগড়ায় ডাম্পিং স্টেশন নেই। এ কারণে পৌর এলাকার কোনো ময়লা পৌরসভা থেকে সংগ্রহ করা হয় না। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে ময়লা সরান। ডাম্পিং স্টেশন করতে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। জায়গা পেলে হাসপাতালসহ পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়