খুলনা প্রতিনিধি
‘সরকার জনমত ও স্বাধীনতার চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় পাটকল গুলো বন্ধ করেছে। এখন লিজের নামে লুটপাটের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। অতীতে বেসরকারিকরণের নামে যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তার অভিজ্ঞতা এটাই বলে-মন্তব্য করলেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স। রোববার (৩০ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে খুলনার খালিশপুর এলাকায় পদযাত্রা ও সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় খাতে পাটকল চালু না করে সরকার ব্যক্তি মালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্যই এই লিজ কার্যক্রম শুরু করেছে।’ প্রবীণ এই নেতা আরও বলেন, ‘পাট কল বন্ধ করলেও বিজেএমসি ও তাদের কর্মকর্তাদের বহর রেখে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার অপচয় করা হচ্ছে। অথচ এখনো শ্রমিকদের সমুদয় বকেয়া শতকোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি। বন্ধ পাটকলগুলোতে সুরক্ষারও ব্যবস্থা নেই। মেশিনারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটপাট হচ্ছে। অনেক জায়গায় জায়গা-জমিও লাপাত্তা হচ্ছে। এখন পুরো জমি লুটপাটের আয়োজন করারই অপেক্ষায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, চেতনার কথা বলে। কিন্তু সংবিধানের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালা অনুযায়ী যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনার কথা, তার উল্টো পথে অর্থনীতিকে চালিত করা হচ্ছে। তাই এখন পাকিস্তান আমলের ২২ পরিবারের বিপরীতে নতুন ২২ পরিবারের উদ্ভব হয়েছে। এরা দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে সেকেন্ড হোম ও বেগম পাড়া গড়ে তুলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এ ধরনের লুটেরা কোটিপতি পরিবারের উদ্ভব হচ্ছে সরকারের নীতির কারণে। এরা কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় লুটপাটকারীদের সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেই চলেছে। রাষ্ট্রীয় পাটকল চালাতে ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে। যারা এই কয়েকটি পাটকল ঠিকমতো চালাতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকারও কোনো অধিকার নেই।’ লুটেরাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় বাংলাদেশকে অগ্রসর করতে হবে উল্লেখ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘একমাত্র কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরাই এই কাজটি করতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর এ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল এবং আছে তারা দেশের স্বার্থ রক্ষা করেনি, তাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। বিএনপি জামাতের আমলে আদমজী পাটকল বন্ধ করা হয়েছে। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবশিষ্ট পাটকলগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আজ সারা দুনিয়ায় পাটের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। পাট আমাদের ঐতিহ্য। একসময় আমাদের পরিচয় এরও অন্যতম বাহন ছিল। এর সঙ্গে গ্রামীণ কৃষিসহ পুরো শিল্প ব্যবস্থা জড়িত। এই শিল্পের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও নতুন ভাবে রচনা করতে পারতাম। এখনো সময় আছে বন্ধ পাটকলগুলো আধুনিকীকরণ করে রাষ্ট্রীয় খাতে চালু করুন। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এ ক্ষেত্রে দুই, চার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেই আধুনিকায়ন করে পাটকল চালু সম্ভব। আর সরকারের দুর্নীতি লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে পারলেই পাট খাত লাভজনক খাতে পরিণত হবে।’ পদ্মা সেতু চালু হলেও তার সুফল শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কাছে পৌঁছেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ অঞ্চলে শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। শ্রমিক মেহনতি মানুষের কাজ নেই, প্রকৃত আয় কমে গেছে, ঢাকায় যাওয়াসহ কমে গেছে। সরকার পদ্মা সেতু চালু করতে পারলেও রাষ্ট্রীয় খাতে পাটকল চালু না করার দায়ে অপরাধী।’ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবির খুলনা জেলা সভাপতি ও বাম জোটের খুলনা জেলার সমন্বয়ক ডা. মনোজ দাস। এছাড়া বক্তব্য রাখেন-সিপিবির খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এ রশিদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের মোজাম্মেল হক খান, বাসদের কণা আক্তার, শ্রমিকনেতা নূরুল ইসলাম, আলমগীর কবির, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

