‘
প্রতিদিনের ডেস্ক:
মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করতে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৫ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নানা টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে আট বছর পার করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ।দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিধি-বিধান প্রণয়ন, এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদন, সেশন জটমুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নেন। এতে গতি পেয়েছে স্বতন্ত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে। মেয়াদকালের বাকি সময়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গতিশীল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান, যার অধীনে দেশের মাদরাসা শিক্ষা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে রূপ পাবে।ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আল-আমিন হাসান আদিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি-দাওয়ার পেছনে প্রায় ১০০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ অঞ্চলে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা এসেছে, যখন থেকে এখানে ইসলাম এসেছে। এখানে অন্য শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাও খুবই গভীর থেকে প্রোথিত। আলেম সমাজ, অলি-আউলিয়া, পির-মাশায়েখরা ১০০ বছর ধরে দাবি তুলছিলেন, যেন এ অঞ্চলে মাদরাসা শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়। সেজন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করেও তারা এ দাবি জানিয়েছেন। কেউ দাবি শোনেননি। সর্বশেষ বন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দাবিটি পূরণ করেছেন। সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি-দাওয়ার পেছনে প্রায় ১০০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ অঞ্চলে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা এসেছে, যখন থেকে এখানে ইসলাম এসেছে। এখানে অন্য শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাও খুবই গভীর থেকে প্রোথিত যদি অর্জনের কথা বলি, তাহলে দেখা যাবে—মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্থাৎ ফাজিল এবং কামিল সাধারণ শিক্ষার বিএ ও এম-এর সমমান পেতো না। কারণ তখন মাদরাসা বোর্ড থেকে সনদ দেওয়া হতো। এতে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা চাকরি পেতেন না। ভোগান্তির শিকার হতেন। এখন এই সনদগুলোর সমমান দেওয়া হয়েছে।এতে হাজারও মাদরাসা শিক্ষার্থী ভালো ভালো পদে চাকরি করছেন। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও কার্যকরভাবে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে জাতি। এটিকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারলে দেশ-জাতির কাছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আস্থার জায়গায় পরিণত হবে।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধানগুলোকে সম্মান করে মাউশি অধিদপ্তর ও বোর্ডগুলো সেভাবে কাজ করে। আমাদের এখানে কিছুটা ব্যত্যয় রয়েছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু মাদরাসানির্ভর, সেজন্য এখানে মাদরাসা অধিদপ্তর, মাদরাসা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়কে একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এমপিওভুক্তির বিষয়টি অধিদপ্তর দেখে। বেতন-ভাতাও তারা পরিশোধ করেন। তবে অ্যাকাডেমিক বিষয়, বিধি-বিধানগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। এক বছরে আমরা শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা করেছি। সবমিলিয়ে শিক্ষাকে একটি ভালো মানে পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। এজন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক প্রয়োজন।আমি যখন এখানে দায়িত্ব নিলাম জানতে পারলাম প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মাদরাসার অধিভুক্তি নবায়ন হয়নি। তাদের এমপিওর বেতন-ভাতা আটকে আছে। অনেকে এসে কান্নাকাটি শুরু করলেন। কেউ কেউ এসে বললেন ৭-৮ মাস বেতন পান না। এটা শুনে আমি দুঃখিত হলাম, কষ্ট পেলাম। মাদরাসায় চাকরি যারা করেন, তারা এ সামান্য বেতনটুকু দিয়েই চলেন।তখন আমি ফাইলগুলো কোথায় আটকে আছে, সেগুলো খুঁজে বের করলাম। এখানে এনে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের দিয়ে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করালাম। দুই মাসের মধ্যে সেটার সমাধান করে দিলাম। কিছু মাদরাসাকে আমরা অধিভুক্তি দিয়েছি, কিছু মাদরাসার নবায়ন করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তর চালু করেছি। সবমিলিয়ে মাদরাসা শিক্ষা যে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা এখন সবাই অনুধাবন করতে পেরেছেন।জাগো নিউজ: আপনি এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায়গুলো কী বলে মনে করেন। ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তারা সবাই চান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গতি বাড়ুক। প্রধানমন্ত্রীও চান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক, তিনি এমনটা দেখতে চান। কারণ এটা আলেম সমাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি উপহার। এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-দীক্ষায়, ফুলে-ফলে সুসজ্জিত হতে দেখলে তিনি খুশি হবেন। এ প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার এখন দপ্তরপ্রধান দরকার, ভালো কর্মী দরকার। কিন্তু এগুলো নানা কারণে পারা যায় না। যেমন- ইউজিসি অভিভাবক কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে একসঙ্গে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। গত এক বছরে আমার সবচেয়ে বড় টার্গেট ছিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো। সেটা সম্ভব হয়েছে। আশা করি—আগামী দিনে এ ধারা অব্যাহত রেখে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবো। হাজারও মাদরাসা শিক্ষার্থী ভালো ভালো পদে চাকরি করছেন। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও কার্যকরভাবে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে জাতি। এটিকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারলে দেশ-জাতির কাছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আস্থার জায়গায় পরিণত হবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: মানুষের পেছনে সবসময় শয়তান লেগে থাকে। এসব পাপকর্ম (ঘুস-দুর্নীতি) শয়তানের প্ররোচনায় সবসময় মানুষ করে। ঘুস-দুর্নীতির বিষয়টি আমি আগেও শুনেছি। অধিভুক্তি, কেন্দ্র পাওয়া, অধিভুক্তি নবায়নসহ বিভিন্ন জায়গায় অনিয়ম হওয়ার কথা শুনতাম। অনেকের কাজ দুই ঘণ্টায় হয়ে যাওয়ার কথা। সেটা আটকে রেখে দুই মাসেও দেখা গেল হয় না। তখনই মূলত ঘুস-দুর্নীতির বিষয়টি ঘটে। আমি এখানে এসে সব কর্মকর্তাদের বলেছি—তিনদিন যদি কারও কাছে ফাইল আটকে থাকে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবো। এখন সেগুলো আর আটকে থাকছে না। প্রত্যেকের বিবেক জাগ্রত করে কাজ করতে হবে। আমি মনে করি—বহুলাংশে ঘুস-দুর্নীতি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুক্ত হয়েছে। আগামীতে শতভাগ ঘুসমুক্ত করার প্রচেষ্টা আমি চালিয়ে যাবো। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটা তদন্ত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আমরা নেবো।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: আমরা জমি বরাদ্দ পেয়েছি, বুঝেও পেয়েছি। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা তাদের দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের তাগাদা দিচ্ছি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারলে আমাদের যে তিনটি ভাড়া ভবন নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য আমরাও উদগ্রীব। আশা করি, দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস পাবো আমরা।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স শেষ করছে, তবুও সে ভালোভাবে ইংরেজিটা বলতে পারে না। অথচ সে ক্লাস ওয়ান থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রতি বছর ইংরেজি পড়ছে। একই অবস্থা মাদরাসাতেও। প্রতি ক্লাসে আরবি পড়ছে, লিখছে, তবুও আরবিতে খুব ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না অনেক মাদরাসা শিক্ষার্থী। এটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি আমরা।আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, প্রতিটি মাদরাসায় আরবি শিক্ষাকেন্দ্র থাকবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিখবে, আরবিতে কথা বলবে, লিখবে। তারা আরবি ভাষায় দক্ষ হবে। পাশাপাশি একইভাবে ইংরেজি শিক্ষাকেন্দ্রও থাকবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনও করছি আমরা। আশা করি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বে রোল মডেল হবে।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেই সেশনজটের সমস্যাটা প্রকট হয়ে ওঠে। আমি ২০২৩ সালের এপ্রিলে এসে দেখলাম তিনটা পরীক্ষা আটকে আছে। ওই সময়ে শিক্ষার্থীর জীবন থেকে তিন-চারটা বছর ঝরে গেছে। আমি দ্রুত রুটিন করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। এ এক বছরে আমি তিনটি পরীক্ষা নিয়েছি, ফল প্রকাশ করেছি। এখনো যেটুকু জট রয়েছে, তা হয়তো চলতি বছর আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: নীতিমালা করার ক্ষেত্রেও আমরা হাত দিয়েছি। আমরা এমফিল ও পিএইচডি নীতিমালা করেছি। আরও একটি কাজ করেছি, সেটা হলো জার্নাল নীতিমালা। আমরা এখান থেকে রিসার্চ জার্নাল বের করবো। সেটা প্রক্রিয়াধীন। এমফিল ও পিএইচডিতে আমরা শিক্ষার্থী ভর্তি করবো, সেই প্রক্রিয়াও চলমান। আমি তো স্বপ্ন দেখি; আজকের বিশ্বে ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় অনেক অবদান রেখেছে। স্বর্ণালি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আল-আজহারকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিএছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হয়, কী হচ্ছে; সেটা অনেকে জানেন না। লিখিতভাবে এটার কোনো তথ্য প্রকাশ করা হতো না। আমরা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন মানুষ জানতে পারবে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে কী হচ্ছে। ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সমাচার’ নামে একটি মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সবার সহযোগিতা পেলে অতি দ্রুত এ কাজগুলো এগিয়ে নিতে পারবো অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: সৌদি সরকারের সহযোগিতায় আমরা অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট করার উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকার সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা জায়গা ও পরিকল্পনা চেয়েছিলেন। সেটা আমরা জমা দিয়েছি। তারা আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে জায়গাও ঘুরে দেখে গেছেন। আশা করি, এটা দ্রুত অনুমোদন পাবে। এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব শ্রমিকরা যান, তারা এখান থেকে আগেই আরবি ভাষার কোর্স করে যেতে পারবেন। এতে তাদের ভালো চাকরি পাওয়া সহজ হবে। যারা আরবিতে দক্ষ হয়ে যাবেন, তাদের সৌদি আরবসহ আরবি ভাষাভাষি দেশে বেশি মূল্যায়ন করা হবে। এতে আমাদের দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ: দেখুন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমরা ইসলাম, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা এবং নৈতিকতার চর্চা করছি। এখানে ভালো শিক্ষার্থী তৈরি হলে তারা দেশের জন্য সোনার মানুষে পরিণত হবে। দেখবেন—অনেক উচ্চশিক্ষিত ছেলে-মেয়ে তাদের বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান। কিন্তু আমার মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে নেই, এটা আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। মাদক, ছিনতাই, রাহাজানিতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা নেই। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কম। প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেন—নৈতিক ও আলোকিত মানুষ দরকার। সেই মানুষ আমরা তৈরি করছি।আমি তো স্বপ্ন দেখি; আজকের বিশ্বে ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় অনেক অবদান রেখেছে। স্বর্ণালি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আল-আজহারকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

