১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বাগেরহাটে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ১০ জন আহত ১০ পরিবার এলাকা ছাড়া, শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ

কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাটের চিতলমারী ও ফকিরহাট উপজেলায় নির্বাচনোত্তর হামলা অত্যাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কতিপয় সমর্থদের বিরুদ্ধে। চিতলমারীতে ভয়ে পাঁচ গ্রামের ১০ পরিবার এলাকা ছেড়েছেন এবং আরো শতাধিক পরিবার বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তারা বাড়ির বাইরে রামÍাঘাটে কিংবা বাজারে গেলেই হামলা অপমান অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। হামলায় আহত হয়ে ইতোমধ্যে দুইজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং অন্যরা বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ফকিরহাটের নলধা মৌভোগ পশ্চিমপাড়ায় বড়মসজিদ প্রাঙ্গনে হামলায় মিরাজ শেখ(২৫), ফজলে করিম (২৮) ও কাঞ্চন শেখ (৫৫) নামে ৩ ব্যক্তি আহত হন। এরমধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। একই উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের ভেড়বাড়ি তেমাথা মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে অনুরূপ প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর হোসেন ও জাহাংগীর হোসেন নামে দু’ভাই গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের্ করা হয়েছে। উভয় ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিজয়ী চেয়ারম্যানের সমর্থক কতিপয় ব্যক্তি বিজিত চেয়ারম্যানের আনারস প্রতীকের সমর্থকদের ওপর এ হামলা করেছে বলে আহরা জানিয়েছেন। উভয় ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরআগে নির্বাচন শেষে রাতে দোহাজারী পশ্চিমপাড়া এলাকায় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদীকা অঞ্জনা অধিকারীর পারিবারিক মন্দিরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গৃহকর্তা শ্যাম অধিকারী জানান, রাতে প্রথমে কাঠের ঘরে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মন্দিরে। এতে মন্দিরের বিগ্রহসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আক্রোশ চরিতার্থ করতে শত্রুতামূলকভাবে কে’ বা কারা’ এই আগুন দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। চিতলমারীরর কলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়ার ভাগ্নে সৌরভ শেখকে (২৫) ধরে নিয়ে নির্যাতন, মারপিট করা হয়েছে। জানা যায়, ২৩ মে দিবাগত রাত নয়টার দিকে শ^শরবাড়ি থেকে ফেরার পথে পথিমধ্যে চরচিংগড়ি গ্রামের আক্কাছ আলী শেখের ছেলে সৌরভ শেখকে ধরে একটি বাগানে নিয়ে মুখে গামছা বেধে বেদম মারপিট করে। এক পর্যায়ে মুখের গামছা খুলে গেলে সৌরভ চিৎকার করে। তা শুনে লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সৌরভ শেখ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অশোক কুমার বড়ালের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করায় জয়ী চেয়ারম্যান আলমগীর সিদ্দিকীর পক্ষের লোক পলাশ, আরিফ ও হাবিল হামলা করেছে। তিনি এখন প্রাণভয়ে রয়েছেন।’ এদিকে ২৩ মে রাতে কলাতলা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মফিজ শেখের দুই ছেলে সাকিব শেখ (১৮) ও রাজু শেখ (৩০) এবং বাচ্চু শেখের ছেলে সুমন শেখকে (২৫) মেরে আহত করা হয়। আহতরা জানান, বিজয়ী চেয়ারম্যান আলমগীর সিদ্দিকীর ভাগ্নে হিমেল শেখ প্রতিবেশি উপজেলা টুঙ্গিপাড়া হতে লোকজন নিয়ে এসে তাদের উপর হামলা চালায়। আহতরা প্রাণভয়ে কোন হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেনি বলে জানান। এর আগে নির্বাচনী রাতে গত ২১ মে কলাতলা ইউনিয়নের চরচিংগড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম শেখের ছেলে হাসিব শেখের (৩৫) উপর হামলা করে চিতলমারী থানা ভাংচুর ও নাশকতা মামলার আসামী মনির শেখ ও তার লোকেরা। মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসিব শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসিব শেখের অভিযোগ, অশোক কুমার বড়ালের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করায় বিজয়ী চেয়ারম্যান আলমগীর সিদ্দিকীর পক্ষের মনির শেখের নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়।
শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে কলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া সাংবাদিকদের জানান, এবারের চিতলমারী উপজেলা নির্বাচনে মুলত বিএনপি-জামাত শক্তি কিছু আওয়ামী লীগের লোকের মাথায় হাত বুলিয়ে বিজয়ী হয়েই ২০০১ সালের মতো অত্যাচার শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অশোক কুমার বড়ালের পক্ষে কাজ করায় বিজয়ী আলমগীর সিদ্দিকীর লোকে হামলায় তিন জন হাসপতালে ভর্তি। প্রাণভয়ে চরচিংগড়ি, চিংগুড়ি, কুনিয়া, গঙ্গাচন্না, শৈলদাহ গ্রামের কমপক্ষে ১০ পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে। আরো শতাধিক পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে গৃহবন্ধি অবস্থায় রয়েছে। তারা বাজার-ঘাটে কিংবা কাজে যেতে পারছেন না। এমনকি তাদের সন্তানেরা ভয়ে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায়ও যেতে পারছে না। এছাড়া. শ্রীরামপুর. ডুমুরিয়া, কালশিরা, বারাশিয়া, চরবানিয়ারী, কচুড়িয়া, মাছুয়ারকুল, খাগড়াবুনিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা হতে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে ঘটনা ঘটে তা তাৎক্ষনিকভাবে থানার ওসিকে অবগত করা হয়।এই বিষয়ে নববিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেন জানান, তার লোকেরা কোন কাউকে হামলা বা অত্যাচার করেনি। যদি কোন অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
এই বিষয়ে চিতলমারী থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, কোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।’ পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান (পিপিএম) বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতীর উজ্জ্বল দৃষ্টন্ত বাংলাদেশ। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বাপর বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন কোন স্থানে নিরীহ মানুষদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, হামলা অত্যাচার করছে, যা কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। এসব অপরাধীদের অবিলম্ভে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জয়ী এবং বিজীতসহ সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করেন। যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের খবর তাংক্ষনিক পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়