১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ভোটে নেই বিএনপি-জামায়াত : তবে মাঠে রিজার্ভ রয়েছে! যশোর সদরে উপজেলায় ভোট উৎসব কাল

সৈকত হোসেন
কাল ৫ জুন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমে গ্রহণ করা হবে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট। সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। দিন-রাত মাইকিং আর হ্যাণ্ডবিল ছড়ানোর যে মহড়া চলছিল, তাও বন্ধ রয়েছে। তবে প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা ওয়ান টু ওয়ানের মাধ্যমে ভোট ভিক্ষা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এবারের উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান উপজেরা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল শক্ত প্রার্থী। যদিও তাকে পরাজিত করতে অনেকেই তৎপর! তারা চাইছেন টাকা দেনেওয়ালা বির্কিত একজন প্রার্থী বিজয়ী হোক। এই প্রার্থীর পক্ষে আওয়াজ উঠেছে ‘আড়াই কোটিতে সব ফিট!’ কর্মী-সমর্থকদের পেছনেও কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় হয়েছে। আবার সেই প্রার্থীর রিজার্ভ নাকি বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোট। বিএনপি-জামায়াতের ভোটে প্রার্থী না থাকলেও, তারা মাঠে রয়েছে স্বাড়ম্বরে। বিভিন্ন ইউনিয়নে কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ভোট করছেন একজন প্রার্থীর পক্ষে। গুঞ্জন রয়েছে এখানেও বড়বড় রথি-মহারথিদের কিনেতে হয়েছে বিপুল অর্থের বিনিময়ে। অন্যসব চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে মুঠোফোন তুলছেন না। কেউ কেউ হোয়াটসআপে কল ব্যাক করে বলছেন চরম টেনশনে আছি। পাল্টে গেছে মাঠচিত্র। চুলচিরা বিশ্লেষণেও মিলছে না হিসাব-নিকাশ। এখন ভোটারদের মাঠে আনার কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ‘টাকার বস্তায় সব ফিট’ প্রসঙ্গে দু’জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘনিষ্টজনরা বলছেন, টাকায় ভোট পাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে-এরমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা পৌঁছে গেছেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। এরবাইরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে টহল দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। কোথাও ভয়-ভীতি দেখানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সবমিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের পরিবেশ বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৪ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসছে পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে কারা তারা এবং কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বলছে-তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট তথ্যদাতারা। তবে এরইমধ্যে উপজেলাজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দিতে দেখা যাচ্ছে-এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ‘স্বর্ণলতা ডট নিউজ’র প্রতিনিধিরা। ধান কাটা শেষ হয়েছে বেশ আগেই। এখন শাক-সবজি চাষের দিকে মনোযোগী হয়েছে কৃষক। তবে ভোটে বেশ আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিকটাতীতে অনুষ্ঠিত যেকোনো ভোটের চেয়ে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেশি ভোটারের উপস্থিতি ঘটবে-এমন কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সদরে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ হওয়ায় ভোটারদের মনের কথা বুঝা কঠিন হয়েছে। ভোটারদের কথা-বার্তায় সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কে কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট করছেন-তাও অস্পষ্ট। অনেকে পছন্দের প্রার্থীর অবস্থান জানতে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ভোটারের ভেতরের খবর বের করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি গত কয়েকদিনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ভোটাররাও সতর্ক হয়ে গেছেন। নির্বাচন অফিস সূত্রমতে-৫ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। এরবাইরে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন রয়েছেন। ১৬ প্রার্থীরা হলেন, চেয়ারম্যান পদে আনোয়ার হোসেন বিপুল (দোয়াত কলম), ফাতেমা আনোয়ার (ঘোড়া), তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু (মোটরসাইকেল), মোহিত কুমার নাথ (শালিক), শাহারুল ইসলাম (জোড়া ফুল), শফিকুল ইসলাম জুয়েল (কাপ পিরিচ), মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী (আনারস) ও আ.ন.ম আরিুফুল ইসলাম হীরা (হেলিকপ্টার)। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে কামাল খান পর্বত (তালা), মনিরুজ্জামান (উড়োজাহাজ), শাহজাহান কবীর শিপলু (চশমা), শেখ জাহিদুর রহমান (বৈদ্যুতি বাল্ব) ও সুলতান মাহমুদ বিপুল (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিল্পী খাতুন (হাঁস), বাশিনুর নাহার (ফুটবল) ও জ্যোৎস্না আরা মিলি (কলস)। ইতিমধ্যে ভোটের আনুষ্ঠানিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, সদরের ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের ২১৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৪২ ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩০, মহিলা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। মোট ২১৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৭৫৬ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দায়িত্ব পালন করবেন ২১৯ প্রিজাইডিং অফিসার, ১৭৫৬ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩৫১২ পোলিং অফিসার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্যমতে-ভোট উৎসব হতে যাচ্ছে সদরে। যে উৎসবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হেসেন বিপুল (দোয়াত কলম)-এর সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এবং সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি শাহিন চাকলাদার মনোনীত প্রার্থী তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু (মোটরসাইকেল)-এর সাথে। এছাড়া সংখ্যালঘু ভোটের সাথে আওয়ামী লীগৈর একংশের ভোট একাট্টা হলে মোহিত নাথও হতে পারেন এবারের নির্বাচনে বিজয়ী। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ‘আড়াই কোটিতে সব ফিট!’বলে ধুয়ো তুলে এক প্রার্থী পার পেতে চাইছেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন সামনে এসছে। আর এই ধুয়ো যদি সত্যি হয়। তাহলে রক্ষক হবে ভক্ষক। বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে তুলে এর বাইরের একজন বৈতরণী পার হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘বিশেষ ব্যবস্থায় বাদরের হাতে খোন্তা দেয়ার’ এই প্রচেষ্টা রুখতে প্রশাসনের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই ভোটের উৎসব হবে যশোর সদর উপজেলায়। রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে লড়াই হবে ত্রিমুখী। বিপুল ও ফন্টুর সেই লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। মাঠ জরিপে সাধারন ভোটাররা বলছেন, ত্রিমুখী লড়াই হলেও আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে, যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হেসেন বিপুল (দোয়াত কলম)-এর সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এবং সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি শাহিন চাকলাদার মনোনীত প্রার্থী তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু (মোটরসাইকেল)-কে হারিয়ে অন্যভাবে অন্যকেউ বেরিয়ে আসলে এই তিন নেতার অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়