১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

ভারতের গ্রিডের মাধ্যমে নেপালের বিদ্যুৎ আনতে মন্ত্রিসভা কমিটির সায়

প্রতিদিনের ডেস্ক:
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫ বছরের জন্য ভারতের জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এখন আনুষ্ঠানিক চুক্তিসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১১ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান।তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা।
কবে নাগাদ চুক্তি হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, এটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে। কারণ, বিদ্যুৎ নেপালের, আসবে ভারতের সঞ্চালন লাইন হয়ে।
নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসতে কতদিন লাগতে পারে?- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর নেপালে সফর আছে। সেখানে হয়তো এই চুক্তি সম্পন্ন হবে।মাহমুদুল হোসাইন খান আরও বলেন, ৫ বছরের জন্য চুক্তি করা হবে। প্রতিবছর আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকা লাগবে। এতে পাঁচ বছরে আনুমানিক ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি টাকা। ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেড়ামারায় জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
এর আগে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে ভারতের জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রস্তাব ইস্যু করলে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভাইপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) প্রস্তাব দাখিল করে।
পিইসি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা দর প্রস্তাবে নেপাল থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ে ৫ বছরের জন্য চুক্তি করা হবে। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রে ভারতের মোজাফফরবাদ সাবস্টেশনে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৪০ ইউএস সেন্ট। এনভিভিএন ট্রেডিং মার্জিন হবে শূন্য দশমিক শূন্য ৫৯৫ ভারতীয় রুপি। এছাড়া ট্রান্সমিশন চার্জ হবে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) নিয়ম অনুযায়ী।
এ বিষয়ে গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিলে এই মাসের মধ্যে চুক্তি হবে। চুক্তি সই হলে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনতে আরও মাস খানেক সময় লাগবে। আমরা আশা করছি এক-দুই মাসের মধ্যে নেপালের বিদ্যুৎ চলে আসবে।
নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসলে আমরা কোন ধরনের সুবিধা পাবো? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা তো মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। ৪০ মেগাওয়াট হলো সাগরের মধ্যে এক বালতি পানি ফেলার মতো। এটা হলো প্রতীকী, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি জলবিদ্যুৎ আমরা আনতে পারবো নেপাল থেকে। সেটার একটা সম্ভাবনা হয়তো তৈরি হবে।জানা গেছে, বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নেপালের ত্রিশুলি প্রকল্প থেকে ২৪ মেগাওয়াট এবং অন্য একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৬ মেগাওয়াটসহ মোট ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে। ভারত হয়ে বাংলাদেশের ভেড়ামারায় জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ যোগ হবে।
নেপালের এ বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসে ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন ও আমদানি’ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওই কমিটির প্রধান ছিলেন। বৈঠকে আ হ ম মুস্তফা কামাল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ট্যারিফ জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম দেশে কয়লাভিত্তিক উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের তুলনায় কম পড়বে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়