উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ভামিয়া-পোড়াকাটলা এলাকা থেকে বোরিং করে ভু-গর্ভস্থ্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আবিয়ার, মহব্বত ও জিন্নাত নামে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ১৫ নভেম্বর (শুক্রবার) বিকাল থেকে ঐ বালু উত্তোলন শুরু করেছে বলে অভিযোগ। দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বালু উত্তোলনে আপত্তি তোলায় হুমকি ধমকী দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় গ্রামবাসীদের। তাদের দাবি যত্রতত্র বালু উত্তোলনে বিধি-নিষেধ থাকা সত্তে¡ও এসব প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক ্রপভাব খাটিয়ে বালু তুলছে। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা যুবদল নেতা আবিয়ার সম্পর্কে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ভাগ্নে। পোড়াকাটলা গ্রামের সুধাংশু মন্ডল জানান শুক্রবার সকাল থেকে দু’টি মেশিন ব্যবহার করে পোড়াকাটলা দিপায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনের জমি থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়। অনাদী বিশ্বাস নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আর্থিক সুবির্ধার প্রলোভনে ফেলে জোরপুর্বক তার স্বত্ত¡ দখলীয় জমি থেকে উক্ত বালু উত্তোলন চলছে। আইযুব আলী সরদার নামের এক গ্রামবাসী জানান বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা স্থানীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী। যার ফলে নির্দিষ্ট মালুমহাল থেকে সংগ্রহ না করে জনবসতির মধ্যভাগের কৃষি জমি থেকে বোরিং করে বালু তুলছে। এভাবে বালু তোলার কারনে স্থানীয়রা ভাঙন আতংকের কথা শোনাচ্ছেন বলেও আইয়ুব আলীর দাবি। রুস্তম আলী নামের স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান ভাড়াটে জনবলসহ বোরিং মেশিন ও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদী খাগড়াঘাট এলাকা থেকে আনা হয়েছে। কৃষি জমি থেকে বোরিং করে বালু উত্তোলনে তারা ভীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়ার শংকায় ভুগছেন। তিনি আরও বলেন উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে বর্তমানে ৩৫ নং ভামিয়া পোড়াকাটলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। পরবর্তীতে সিন্ডিকেটটি একই অংশের ভু-গর্ভস্থ্য বালু উত্তোলন করে পার্শ্ববর্তী দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মান কাজে সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামের ভুপতি মন্ডলের বাড়ি হতে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কে উক্ত বালু ব্যবহার হবে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে প্রভবাশালীরা বালু উত্তোলন করছে। গ্রামবাসীদের আপত্তি আমলে না নিয়ে বরং মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। এলাকার ভাঙনরোধসহ জীব ও প্রাণবৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে তারা দ্রুত সময়ে ভু-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িগোয়ালীনির ৯ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা আবিয়ার জানান,বালু তোলার ব্যাপারে এসি ল্যান্ড, ইউএনও, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ আছে। নির্দেশের কাগজ দেখতে চাইলে ‘বালু তোলা বন্ধকরার ক্ষমতা কারও নেই’- জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন। এদিকে বালু তোলার ছবি গ্রহনের চেষ্টা করায় মহব্বত আলী স্থানীয় মামুন নামে এক তরুনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনী খাতুন জানান,বালু মহালের বাইরে ঝুঁকিপুর্ন কোন জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করার অনুমতি কারও নেই। এধরনের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

