১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ক্যারিবিয়ানদের মতো উইকেটে পড়ে থাকতে পারবেন মুমিনুল-লিটনরা?

প্রতিদিনের ডেস্ক॥
অ্যান্টিগায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৬১ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর টেলএন্ডার দুই ব্যাটারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন জাস্টিন গ্রিভস। কেমার রোচ, জেইডেন সিলসকে আউটই করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের। দশ নম্বরে নামা শামার জোসেফকে তো আউটই করা যায়নি। এমন ঘটনা এই প্রথম নয়, আগেও ঘটেছে। দলের বিপদগ্রস্ত অবস্থায় টেলএন্ডারকে নিয়ে প্রতিরোধ করার ঘটনা অহরহ আছে ক্রিকেটে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটি যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্টিগাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল্পরানে বেঁধে ফেলার পর সুযোগটি হেলায় হারিয়েছে সফরকারীরা। এখন তাদের দেওয়া ৪৫০ রানের জবাবে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষাতে বাংলাদেশ। টেলএন্ডারদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারছে না বাংলাদেশের বোলাররা। ৭-৮ উইকেট পড়ে গেলে সম্ভবত বোলাররা অনেকটা নির্ভার হয়ে পড়েন। হয়তো তারা ভাবতে শুরু করেন, উইকেট চলেই যাবে। এমন ভাবনাতেই ঘটছে বিপত্তি। এর আগে বেশ কিছু ম্যাচে টেলএন্ডাররা বাংলাদেশ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। বাইরে থেকে দেখলে কারণ হিসেবে পাওয়া যায় মানসিকতাকে। এই মানসিকতার বদল না হলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়। জাস্টিন গ্রিভস তিন টেলএন্ডারকে নিয়ে ১৮৯ রানের বেশি করেছেন। এই রানটিই মূলত বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে দিয়েছে। অ্যান্টিগার উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ৯ উইকেটে তুলেছে ৪৫০ রান। ক্যারিবীয় কন্ডিশনে প্রথম ইনিংসে এমন সংগ্রহ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। স্বাগতিকদের ব্যাটিং দেখে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন কিংবা বোলিংয়ে বিশেষ কিছু রয়েছে। নতুন বলের বিপক্ষে কিছুটা সংগ্রাম করতে হলেও বল কিছুটা পুরোনো হয়ে গেলে উইকেটে ব্যাটিং করা অনেকটাই সহজ। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা, তারা নতুন বলে একদমই লড়াই করতে পারেন না। যার ফলে মিডল অর্ডারে গিয়ে পুরো দল কঠিন চাপে পড়ে যায়। শনিবার ক্যারিবীয় কন্ডিশনে নতুন বলের চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে শুরুতেই ধাক্কা হজম করতে হয়েছে। দুই ওপেনার এক ঘণ্টার ভেতরেই সাজঘরে ফিরেছেন। প্রথমে জাকির হাসান, পরে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান। উইকেটে টিকে আছেন মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন দিপু। এরপর আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস ও জাকের আলী। এই পাঁচ ব্যাটারকে নিয়ে বাংলাদেশকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। রান উঠুক বা না উঠকু; উইকেটে পড়ে থাকার বিকল্প নেই। উইন্ডিজ ব্যাটারদের মধ্যে যারা রান পেয়েছেন, সবাই উইকেটে সময় কাটিয়েছেন। সর্বোচ্চ ১১৫ রান করা সেঞ্চুরিয়ান গ্রিভস উইকেটে কাটিয়েছেন ৩৭৪ মিনিট। মাত্র চারটি বাউন্ডারি এসেছে তার ব্যাটে। রান তোলার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী দেখা যায়নি তাকে। তার মূল লক্ষ্য ছিল উইকেটে সময় কাটানো। উইকেটে সময় কাটানোর কারণেই সফল হয়েছেন গ্রিভস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান কেমার রোচ। ১৪৪ বল মোকাবেলা করতে গিয়ে উইকেটে কাটিয়েছেন ২৫২ মিনিট। এই সময় কাটানোর ফলে নিজের নামের পাশে ৪৭ রানও যোগ হয়ে গেছে। প্রথম দিনেও ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের উইকেটে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওপেনার মিকাইল লুইস ৩৩০ মিনিট উইকেটে কাটিয়েছেন অনায়াসে। আথানেজ মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি বাড়িয়েছেন। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১৩০ বলে ৯০ রান করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। তিনিও উইকেটে ১৭০ মিনিট কাটিয়েছেন। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের উইকেটে পড়ে থাকার চেষ্টাই তাদের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের ব্যাটারকে এই কাজটি করতে পারলে তারাও সফল হবেন। এখন দেখার অপেক্ষা লিটন-মুমিনুল-শাহাদাতরা কতটা সময় উইকেট আকঁড়ে থাকতে পারেন!

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়