৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কালীগঞ্জে নদীর গর্ভে বিভিন্ন ফসলের চাষ

সোহেল আহমেদ, কালীগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরীর চিত্রা নদী সহ ঝিনাইদহ জেলার ৭টি নদÑনদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদ-নদীর তলদেশে বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। কালীগঞ্জ উপজেলা সহ ঝিনাইদহ জেলার অভ্যন্তরে রয়েছে নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি, আত্রাই, বেগবতি, চিত্রা ও কপোত্যক্ষ নদ-নদী। ফারাক্কা বাঁধের পূর্বে এ সব নদ-নদীর বুকে চলাচল করতো বড় বড় জাহাজ ও নৌকা। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানির ঢলের সাথে নেমে আসা বালু জমে নদ-নদী গুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে গেছে। এ সব নদ-নদী সংষ্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর পানি ধারন ক্ষমতা আশংকা জনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার সবচেয়ে বড় নদ কপোত্যক্ষ। এর বুকে নেই পানি। আছে সামান্য অশ্র“ ধারা। চিত্রা, ফটকি, কুমার ও বেগবতির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন প্রায়। এসব নদ-নদীর বুকে এখন ধু ধু বালুচর। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানান নদীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অন্ততঃ সাড়ে তিন হাজার কিউসেক পানি দরকার। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে নদীর প্রবাহ মারাত্বক ভাবে কমে যাচ্ছে। এ সব নদীগুলো সংষ্কারের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। ঝিনাইদহ জেলার উল্লেখিত নদ-নদী গুলো মরা খালে পরিনত হওয়ায় এর দুই পাশের বিস্তীর্ন এলাকায় এখন ধান সহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর পাড় দখল করে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করছে দীর্ঘদিন ধরে। কোন কোন স্থানে নদীর তলদেশে ও হচ্ছে চাষাবাদ। অনেকে আবার পাকা ঘর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করে ভোগ দখল করছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জেলার নদ-নদীগুলো সংষ্কার করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে এলাকা বাসী অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়