২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে বিএনপি কর্মী মেহের আলী হত্যা মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের বাদিয়াটোলা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী বিএনপি কর্মী মেহের আলী হত্যা মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে ডিবি পুলিশ। মামলা তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খান মাইদুল ইসলাম রাজিব। অভিযুক্ত আসামিরা হলো, যশোর নতুন উপশহর ই-ব্লকের মিজানুর রহমানের ছেলে মাহাবুবুর রহমান কোকিল ওরফে আকাশ ওরফে ফয়সাল, মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম রকি, সদরের বাদিয়াটোলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শহর আলী ওরফে শের আলী ও তার ছেলে মেহেদি হাসান, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তারেক হোসেন, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম দুলালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ও ঝাউদিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মেহের আলী বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বাদিয়াটোলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ত্রিমোহনী রোডের পাশে বাড়ি করার সময় প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ সমর্থক শহর আলীর তার কাছ থেকে চাঁদা গ্রহন করেছিল। মেহের আলী কুয়েতে চলে গেলে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করত। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মেহের আলী দেশে ফিরে আসে। ওই সময় দেশে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয় মেহের আলী। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৯ আগস্ট রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজের বাড়ির প্রধন ফটকে তালা লাগাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয় মেহের আলী। এ ঘটনায় নিহতের আব্দুল মালেক বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিএনপি কর্মী মেহের আলীর সাথে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ কর্মী শহর আলীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মেহের আলী ও শহর আলী উভয় বিদেশে থাকে। মেহের আলী দেশে ফেরার পর আাওয়মী লীগ সরকারের পতন হয়। এতে বিএনপি কর্মী মেহের আলী আওয়ামী লীগ কর্মী শহর আলীর বাড়িতে যেয়ে হুমকি দিয়ে আসে। শহর আলীর স্বজনরা বিষয়টি তাকে জানায়। শহর আলী ও তার ছেলে মেহেদী হাসান বিদেশে থেকে মেহের আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মেহেদী তার বন্ধু সাজ্জাদের সাথে যোগাযোগ করে। সাজ্জাদ তার বন্ধু কোকিলসহ অপর আসামিদের সহযোগীতায় মেহের আলীকে গুলি করে হত্যা করে। এ মামলার র্দীঘ তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্ত। চার্জশিটে অভিযুক্ত দুইজনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়