রেজাউল করিম, লোহাগড়া
আসন্ন বৈশাখী মেলা উপলক্ষে লোহাগড়া পাল পাড়ায় মৃৎশিল্পিদের ব্যস্ততা বেড়েছে। মৃৎশিল্পীরা বাহারি সব মাটির খেলনাসহ বিভিন্ন ধরণের জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ মুহূর্তে পালবাড়ির নারী সদস্যরা মাটির তৈরি খেলনায় রংতুলির আঁচড় দিচ্ছেন। উল্লেখ্য পহেলা বৈশাখে লোহাগড়া উপজেলার একাধিক স্থানে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে। এসব মেলায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বেশ চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে মাটির তৈরি খেলনা সামগ্রী বেশ চাহিদা রয়েছে। সোমবার বিকালে সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশী গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে,পাল-পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন মাটির খেলনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের যেন কথা বলার সময়টুকুও নেই। শিশুদের খেলনা হিসাবে রয়েছে মাটির পুতুল,হাতি,ঘোড়া,দোয়েল পাখি, ময়না পাখি, টিয়া পাখি, হাঁস-মুরগি,নৌকা, মাটির ব্যাংক, মগ, গ্লাস চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচসহ নানা জাতের ফুল ও ফুলদানি। এ ছাড়া রয়েছে পালেদের চিরাচরিত তৈরি মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি। উপজেলার কুন্দশী গ্রামের তপন পাল বলেন,বছরের এই একটা উৎসব ঘিরে আমাদের অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। এখন আর মাটির জিনিসের তেমন কদরও নেই। সারা বছর টানাপোড়েনে চলতে হয়। আজকাল এই কাজ করা পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রাখার চেষ্টা মাত্র। বৈশাখ মাস এলে মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও সামগ্রীর চাহিদা থাকে। তাই এ সময়টায় কিছু আয় হয়। অর্চনা পাল বলেন,পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। এই মেলায় শখের বসে অনেকেই মাটির সামগ্রী বিশেষ করে মাটির খেলনা কেনে। তাই এই সময়ে আমাদের কিছুটা কর্মব্যস্ততা বাড়ে । কিন্তু এসব তৈরিতে প্রধান উপাদান এঁটেল মাটির অভাব। তার ওপরে রঙের দাম বাড়তি। সে অনুযায়ী পণ্যের দাম ততটা বাড়েনি। নড়াইল বিসিক কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন বলেন,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনবদ্য রূপ মৃৎশিল্প। এর সঙ্গে একদিকে জড়িয়ে আছে পালেদের জীবিকা আর অন্যদিকে নান্দনিকতা ও চিত্রকলার বহিঃপ্রকাশ। মৃৎশিল্প বাঙালির নিজস্ব শিল্প, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অংশ। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিসিকের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

