কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুরে চাঁদাবাজি মামলার বাদীকে ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারপিট করেছে। হামলায় বাদীসহ পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২ মে) সকালে উপজেলার বাগদহা গ্রামের জব্বারের মোড়ে হালিমের মুদি দোকানের সামনে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার (২ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলার বাগদহা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন, বাগদহা গ্রামের আজিজুল হাকিম, জাহিদ, মতিয়ার ও আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে পুর্বের একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা করার কারণে আসামি আজিজুল হাকিমগং প্রায় সময় বাদীর নিকট পুনরায় চাঁদা দাবি করে আসছিল। শুক্রবার (২ মে) সকালে বাদী আলমগীর হোসেন বাড়ি হতে তার ব্যবহৃত মটরসাইকেল যোগে কেশবপুর যাওয়ার পথে বাগদহা গ্রামের জব্বারের মোড়ে হালিমের মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে বাগদহা গ্রামের আসামি আজিজুল হাকিম, নিশান, রাজু আহমেদ, শফিকুল ইসলাম শফি, মতিয়ার রহমান মতি, জাহিদ, আলমগীর হোসেন ও আকলিমা খাতুন মটর সাইকেলের গতিরোধ করিয়া ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও পুর্বের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলা চালানো খরচ বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিগণ একত্রিত হয়ে লোহার রড ও কাঠের চলা দিয়ে বাদীকে মারপিট করিয়া গুরুত্বর জখম করে। এ সময় তার জামাতা যশোর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের থেকে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম আবু বকর আবু’র একমাত্র ভাইপো হুমায়ুন কবির, স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ফারিয়া ইয়াসমিন তিশা, স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও পিতা শাহাদাৎ হোসেন খবর পেয়ে ঠেকাতে আসলে আসামিগন তাদেরকেও মারপিট করিয়া গুরুত্বর জখম করে। এ সময় আসামিরা বাদীর ব্যবহৃত মটর সাইকেল (এফজেডএস ভি-২, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর- যশোর-ল-১৩-৬৯৭৭) গাড়িটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এলাকার লোকজন চিৎকার শুনে এসে আহতদের উদ্ধার পুর্বক কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

