৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অভয়নগরে শিল্প ক্লিনিক পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে

মিঠুন দত্ত, অভয়নগর
যশোর-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁষে অভয়নগর উপজেলার শিল্প ক্লিনিক হয়েছে ময়লার ভাগাড়। নওয়াপাড়া পৌরসভার রাজঘাট ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় এলাকার সড়কের পাশে অবস্থিত শিল্প ক্লিনিকটি জুড়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। এসব ময়লার স্তূপ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে চরম বিপাকে পড়ছেন পথচারীসহ এলাকাবাসী। কাপড়ে নাক ঢেকে চলছে পথচারীরা। অভিযোগ রয়েছে সাবেক মেয়রের আমল থেকে শিল্প ক্লিনিকটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রাজঘাট ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেষ সীমানা সড়কের পাশে অবস্থিত শিল্প ক্লিনিকটি জুড়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। যার আয়তন ২.৬১ একর। নব্বইদশকে কয়েকবার ডাকাতি হওয়ার পর থেকেই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সাবেক মেয়র ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আটটি বছর এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আগে বহু বার কর্তৃপক্ষে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোর-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁষে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের রাজঘাট এলাকার শেষ ও শেষ সীমানার শুরুর স্থানে শিল্প ক্লিনিকটি অবস্থিত। আয়তন ২.৬১ একর। যার প্রতিটি স্থানেই রয়েছে বড় বড় সব ময়লার স্তুপ ।দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি শিল্প ক্লিনিক। এর গেটেই রয়েছে একটি সাইন বোর্ড যাতে লেখা রয়েছে, এই জমি অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধনি সরকারি জায়গা। এখানে ময়লা আর্বজনা ফেলা নিষেধ । আদেশক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নামে সাইন বোর্ড থাকলেও কাজে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেরো এখানে। পৌরসভা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২৫.১২ বর্গ কিলোমিটারের এ পৌরসভা ১১ হাজার পরিবারে ৬২ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভায় ২৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। কিন্তু শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। এর ফলে প্রতিদিন সাত থেকে আট ট্রাক ময়লা এনে সড়কের পাশে ফেলছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলিমুর রাজিব বলেন, ‘ যশোর-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁষে পৌরসভার শিল্প ক্লিনিকটি দীর্ঘ আট নয় বছর ধরে ময়লা ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আমি বিষয়টি জানার পরে যশোর জেলা সিভির সার্জন মহাদয়কে জানালে তিনি পরিদর্শন করেন। পরে ময়লা অপসারণের জন্য আমি পৌর কর্তৃপক্ষকে চিঠি করেছি ।’ এছাড়াও তিনি আরো বলেন, ময়লা অপসারণের পরে আমরা এখানে একটি ট্রেনিং সেন্টার করার পরিকল্পনা করছি। রাজঘাট এলাকার বাসীন্দা সামস্ শারফিন জানান, শিল্প ক্লিনিকটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল জে জে আই মিলকে কেন্দ্র করে । এছাড়াও আসে পাশের এলাকার মানুশের সেবার বেশ কাজেও আসতো ক্লিনিকটি। বহু আগে কয়েকবার ডাকাতি হওয়ায় ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে আট নয় বছরধরে এখানে ময়লা ফেলে আসছে নওয়াপাড়া পৌরসভা। আমরা এলাকাবাসীরা প্রতিবাদ করেও কোর প্রতিকার করতে পারেনি। সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আমরা এর থেকে মুক্তি চায়। মেছেরাবাদ আলেয়াতুন্নেসা(রাঃ) মাদ্রাসা ও এতিমখানার মালিক মোঃ রবিউল হক বলেন, ২০৯৮ সালে এটি চালু করি ভালোই চলছিলো মাদ্রাসাটি । কিন্তু সাবেক মেয়র সুশান্ত দাস শান্ত ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিল্প ক্লিনিকটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেন। রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে ওই স্থানে থাকা অনেকটা কষ্টকর। এবিষয়ে বেশ কয়েক যায়গায় অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। তারপর থেকে এই আটটি বছর আমার মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এবিষয় পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কের পাশে নওয়াপাড়া শিল্প ক্লিনিক অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় ছয় -সাত বছর এখানে ময়লা ফেলে হচ্ছে। মূলতো আমাদের ময়লা ফেলার কোন যায়গা নাই। আমরা জমি অধিগ্রহণ করার জন্য কাজ করছি ।খুব তাড়াতাড়ি একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ময়লা ফেলার যায়গা পেলে এখানকার সব ময়লা সরিয়ে নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদক তার কাছে জানতে চাই দীর্ঘ আট বছর ধরে এখানে ময়লা ফেলে আসছেন। এর আগে কি কেই এবিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি।তিনি বলেন , এবিষয়ে আমার জানা নেয়। সরকারি হাসপাতালের নিষেধাজ্ঞা সাইন বোডের বিষয়ে জানতে চাইলে তার জানা নাই বলে জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়