১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হোক

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সিভিল প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) বা দেওয়ানি কার্যবিধির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর ফলে ভুক্তভোগীদের জমিজমা বা সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে বছরের পর বছর আদালত চত্বরে ঘোরাঘুরি করতে হবে না। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হবে। তিনি বলেন, আগে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ ছয়বার করে ১২ বার সময় আবেদন করতে পারত। এতে কয়েক বছর লেগে যেত মামলা শুরু হতে। এখন থেকে আবেদন করা যাবে চারবার। সমন জারির ক্ষেত্রে শুধু ডাকযোগে পাঠানো হতো, যা এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে পাঠানো যাবে। ফলে ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে রাখা যাবে। এ ছাড়া আগে মামলার বাদী আরজি দাখিলের পর বিবাদী লিখিত জবাব প্রদান করত। উভয়পক্ষের এ শুনানি শুরু করতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হতো। এখন লিখিত জবাব পঠিত হিসাবে গণ্য হবে। লিখিত জবাব পড়ে সময়ক্ষেপণ করতে হবে না। সিপিসির চূড়ান্ত অনুমোদন দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করি আমরা। দীর্ঘদিন ধরেই বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ও বিলম্বিত বিচার ছিল একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আইনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে সরকার একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছে বলা যায়। সিভিল প্রসিডিউর কোড মূলত সিভিল মামলা পরিচালনায় প্রসিকিউটরদের ভূমিকা ও কাঠামোকে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। এতে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষায় প্রসিকিউটররা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আইনের মাধ্যমে প্রসিকিউশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এ আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য আইনি প্রক্রিয়াকে সহজ ও বোধগম্য করে তুলবে। সাধারণ মানুষ এখন আরও বেশি আস্থা নিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। এর ফলে আইনের শাসন আরও দৃঢ় হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম হবে। তবে আইনটি কার্যকর করতে হলে শুধু অনুমোদনই যথেষ্ট নয়। এর যথাযথ বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষিত প্রসিকিউটর নিয়োগও জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারকে একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে করে আইনের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। সিভিল প্রসিকিউটর কোডের অনুমোদন একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ। এটি আমাদের বিচারব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দ্বার উন্মোচন করেছে। এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারব।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়