১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে বৈশাখী ফুটবল উৎসবের ফাইনাল খেলায় ট্রফি জিতে নিলো এক নম্বর ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর নগর বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য বৈশাখী ফুটবল উৎসবের জমকালো পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আজ শনিবার (১০ মে) শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে ১ নম্বর ওয়ার্ড টাইব্রেকারে ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ সময় টান টান উত্তেজনা আর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল মাঠে। বহুদিন পর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় কানায় কানায় দর্শক-স্রোতায় পরিপূর্ণ ছিল গ্যালারি। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি ফুটবল খেলা হাজারো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায় প্রতিটি মুহূর্ত। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ১০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে প্রথম ৫টি করে শটে উভয় দল ৪টি করে গোল করলেও ‘সাডেন ডেথ’-এ জয় নিশ্চিত করে ১ নম্বর ওয়ার্ড। দলের গোলরক্ষক মিথুন অনন্য দক্ষতায় দুটি শট রক্ষা করে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন এবং দর্শকদের হৃদয় জয় করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। যশোরে বৈশাখী ট্রফি জয় করলো যশোর ১ নম্বর ওয়ার্ডফাইনাল খেলায় গ্যালারির প্রতিটি আসন ভরে যায়। দুই দলের সমর্থকদের উৎসাহ-উল্লাস মাঠের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। সেই মুহূর্তগুলো যেন ছিল ক্রীড়ার, সংস্কৃতির আর সামাজিক সংহতির এক অপূর্ব সম্মিলন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এই উৎসব সম্পর্কে আয়োজরা জানান, যশোর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট ছিল ক্রীড়া ও সামাজিক ঐক্যের অনন্য উদাহরণ। নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ বলেন, আজকের এই ফাইনাল ঈদের মতো আনন্দ বয়ে এনেছে। তরুণদের বিভ্রান্ত করতে যেখানে অপসংস্কৃতির নানা ফাঁদ পাতা হয়েছে, সেখানে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর ইনোভেটিভ চিন্তা ও সৃজনশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোর পথে টেনে আনছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই বৈশাখী উৎসবের মূল প্রাণ ছিলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার চিন্তা, উদ্যোগ এবং অনুপ্রেরণায় আমরা ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারুণ্যের মাঝে আশা ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।” ক্রীড়াঙ্গনের এই পুনরুজ্জীবনে তাঁর নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও যশোরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন আয়োজকরা। চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও আকর্ষণীয় ট্রফি; রানারআপ দল পায় ২৫ হাজার টাকা। সেরা খেলোয়াড়, সেরা শৃঙ্খল দল এবং ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের জন্য প্রাক্তন ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বৈশাখী ফুটবল উৎসব ছিল যশোরে কেবল একটি ক্রীড়াযজ্ঞ নয়—এ ছিল সামগ্রিক সামাজিক জাগরণের প্রতিচ্ছবি। এই আয়োজনে যেমন ছিল প্রতিযোগিতা, তেমনি ছিল মিলন, উদ্দীপনা এবং গঠনমূলক চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। আয়োজকদের দৃঢ় প্রত্যয়, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে যশোর বারবার ফিরিয়ে আনবে তার গৌরবময় ক্রীড়াপরিচিতি, আর এই শহরের মাঠ-ঘাট আবারও হয়ে উঠবে তারুণ্যের প্রাণের স্পন্দন। দর্শকদের অভিমত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি ফুটবল খেলাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে এধরণের আয়োজন খুবই জরুরী। এতে যুবসমাজকে বিপদগামী হওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়