নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অনভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মোঃ মনিরুল ইসলাম (৩৪), পিতা- মোঃ খোরশেদ আলম, সাং- চাঁচড়া, থানা- সদর, জেলা- যশোর, প্রায় দুই মাস পূর্বে পা অপারেশনের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছিলেন জেলা প্রশাসক বরাবর। আজ তিনি পুনরায় তার আবেদনের অগ্রগতি জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হলে, কর্মচারীদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা ও অশোভন আচরণ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারী মোঃ বাবুল হোসেন, প্রসেস সার্ভার আবু হাসান ও অফিস সহায়ক মনিরুল ইসলামের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মনিরুল। এতে দুইজন কর্মচারী আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং মনিরুল ইসলামকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম অফিস চত্বরের বাইরে এসে পুনরায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে, কর্মচারী শাওনের সাথে পুনরায় বিবাদের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুকুরপাড়ে ঘুরতে আসা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র—আব্দুল্লাহ আল মিনাজ (মুসলিম একাডেমী), নাসির হোসেন (যশোর জেলা স্কুল), নাসিম হাসান ও মোঃ শামীম হোসেন (সরকারি কলেজ যশোর), এবং খন্দকার নাজমুস সাকিব (পুরাতন কসবা দাখিল মাদ্রাসা) সহ ৮-১০ জন অজ্ঞাত ছাত্র পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং কর্মচারী শাওনকে ধাওয়া করে। একজন ছাত্র বাঁশ নিয়ে তেড়ে আসে বলে জানা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় এবং পাঁচজন ছাত্রকে আটক করে। আহত কর্মচারীদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। পরে আটককৃত ছাত্রদের অভিভাবকদের ডেকে আনা হয় এবং অভিভাবকদের জিম্মায় ছাত্রদের হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
