নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ঢালিকে পিটিয়ে হাত পা ভাঙার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) গ্রামের মানুষ মিছিলসহ সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সকাল ৭টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের ফুলসারা নিমতলা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশে জনতার ঢল নামে। কয়েক ঘণ্টা চলে এই বিক্ষোভ সমাবেশ। স্থানীয়রা জানান-বুধবার ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ঢালিকে পথে গতিরোধ করে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন লিটন, মামুন ও টিটোসহ তার সহযোগীরা। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার হাত ও পা থেতলে দিয়ে সটকে পড়ে হামলাকারীরা।
বিষয়টি রাতে জানাজানি হলে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মানুষ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে নিমতলা বাজার সড়কে জড়ো হতে থাকেন। প্রথমে সড়ক অবরোধ করলেও পরে রাস্তার পাশে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধরা। বিক্ষোভ চলাকালে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী লিটনের পা কেটে নিতে পারলে তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার মাইকে ঘোষণা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জানা যায়, বিক্ষোভ চলাকালে মাইকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন এলাকাবাসী। সমাবেশে ইকবাল হোসেন নামে একব্যক্তি জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী লিটনের পা কেটে আনতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ফুলসারা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল লতিফ বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ঢালি এলাকার মানুষের কাছে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। চাঁদার দাবিতে তাকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দিয়েছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী লিটন, মামুন, টিটো ও তার সহযোগীরা। তাদের শাস্তির দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভে। সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, ক্ষোভে পড়ে হয়ত উনি পায়ের মূল্য ঘোষণা করেছেন। এলাকার প্রত্যেকটি মানুষ সন্ত্রাসী লিটন ও তাদের উপর চরম ক্ষুব্ধ। নিরীহ চেয়ারম্যানকে এভাবে হাত পা ভেঙে দেয়ার ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছে না। প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানকে মান্দারতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে পিটিয়ে হাত পা থেতরে দেয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। জিয়াউর রহমান ঢালি সদ্য কার্যক্রম স্থগিত হওয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের ফুলসারা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। চেয়ারম্যানের স্বজনদের অভিযোগ, ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত ২৮ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন। এরপর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগনেতা জিয়াউর রহমান ঢালি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি সন্ত্রাসী লিটনের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন জিয়াউর রহমানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাদের চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন লিটন। বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে যাওয়ার পথে লিটন ও তাদের সহযোগীরা পথরোধ করে। এরপর অস্ত্র ঠেকিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। পরে হকিস্ট্রিক দিয়ে দু পা ও হাত ভেঙ্গে দিয়ে পালিয়ে যায়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর ঢালি জানান, ‘চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একটি পক্ষ আমাকে মেনে নিতে পারেনি। আমাকে হত্যার চেষ্টা শুরু করে। স্থানীয় সন্ত্রাসী লিটন আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই টাকা না দেওয়াতে আমার উপর হামলা চালিয়েছে। মারধরের একপর্যায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করছিল কিন্তু স্থানীয় লোকজন চলে আসাতে তারা পালিয়ে যায়।’ জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে আনা হলেও বর্তমানে তিনি শঙ্কা মুক্ত।’ চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে পুলিশের একটি টিম কাজ শুরু করেছে। তদন্ত চলছে, এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

