প্রতিদিনের ডেস্ক॥
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দৌড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পারপ্লেক্সিটি।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দৌড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পারপ্লেক্সিটি। মাত্র তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানটি টেক জায়ান্ট অ্যাপল ও মেটার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
দি ইনফরমেশনের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে ও মে মাসের শুরুতে পারপ্লেক্সিটির সঙ্গে অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা করেছে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। যদিও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। একই সময়, অ্যাপলও পারপ্লেক্সিটিকে কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে বলে জানিয়েছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্র। তবে সেটি ছিল একেবারেই প্রাথমিক স্তরে।
মেটা ও অ্যাপল কেন প্লারপ্লেক্সিটি অধিগ্রহণে আগ্রহী, এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আলোচনা প্রযুক্তি খাতে এআই সার্চ টুল নিয়ে চলমান প্রতিযোগিতার চিত্রই তুলে ধরছে। টেক জায়ান্টগুলো যখন দ্রুত নতুন নতুন এআই পরিষেবা চালু করছে, তখন অ্যাপল ও মেটা নিজেদের পিছিয়ে পড়া ঠেকাতে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের দিকে ঝুঁকছে।
২০২২ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত পারপ্লেক্সিটি মূলত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত সার্চ ইঞ্জিন। এটি ব্যবহারকারীর প্রশ্নের দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়, একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য সূত্রের লিংক সরবরাহ করে। এর পরিষেবার দুটি ধরন রয়েছে। কুইক সার্চ ও প্রো সার্চ। সাধারণ অনুসন্ধানের জন্য রয়েছে কুইক সার্চ এবং গবেষণাধর্মী তথ্যের জন্য রয়েছে প্রো সার্চ।
পারপ্লেক্সিটির ফ্রি ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন তিনবার প্রো সার্চ করতে পারেন। তবে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্রিমিয়াম সংস্করণে (মাসিক ২০ ডলার) আরো বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে আনলিমিটেড ফাইল আপলোড, ইমেজ জেনারেশনসহ আরো নানা ফিচার।তবে পারপ্লেক্সিটি শুধু সার্চ ইঞ্জিনেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ‘কমেট’ নামের একটি নিজস্ব ওয়েব ব্রাউজার তৈরির কাজ করছে, যেখানে এআই-চালিত ব্রাউজিংয়ের অভিজ্ঞতা যুক্ত হবে।
তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি পারপ্লেক্সিটি কিছু বিতর্কের মুখেও পড়েছে। বিবিসি ও নিউইয়র্ক পোস্টের মতো সংবাদ সংস্থাগুলো অভিযোগ এনেছে, পারপ্লেক্সিটি তাদের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করছে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ভাবছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারপ্লেক্সিটি নিয়ে অ্যাপল ও মেটার আগ্রহের মূল কারণ নিজস্ব সার্চ এবং এআই প্লাটফর্ম শক্তিশালী করা। বর্তমানে অ্যাপলের সাফারি ব্রাউজারে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হওয়ার জন্য গুগল প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করে। তবে এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপল নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করতে চাইতে পারে। বিশেষ করে, যখন সিরির নতুন সংস্করণ এখনো বাজারে আসেনি। অনেকেই ধারণা করছেন, অ্যাপল এআই দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সমাধান খুঁজছে।অন্যদিকে মেটাও এআই খাতে দ্রুত এগিয়ে যেতে চাইছে। কোম্পানিটি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও রে-বেন স্মার্টগ্লাসে এআই ফিচার যোগ করলেও আরো উন্নত সার্চ ও জেনারেটিভ এআই টুলসের জন্য পারপ্লেক্সিটির প্রযুক্তি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি আগামী দিনের টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় চালক শক্তি হতে যাচ্ছে। ফলে এখনই এআই সক্ষমতা বাড়ানো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

