শার্শায় আ.লীগের ১০ জন নেতাকর্মী জেলহাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলায় নাশকতা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আসামি সাইফুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি ১০ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নুর আলম পান্নু। আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, কাজিরবেড় গ্রামের কালাম হোসেন, দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের ইয়ানুর রহমান, আব্দুল মতিন, শাহীন মেম্বার, জাফর, আইজুল, স্বপন, সুবর্ণখালী গ্রামের শামসুর রহমান, কাজিরবেড় গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও উত্তর বুরুজবাগান গ্রামের মুরাদ হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাকিব নামের এক যুবককে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। পরে দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের সাজেদুর রহমান সাজু বাদী হয়ে শার্শা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও নাশকতা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনসহ ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। আত্মসমর্পণকারী ১১ জনই এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর একযোগে আত্মসমর্পণ ও আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে আত্মসমর্পণকারীদের পরিবারের দাবি, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তবে মামলার বাদী ও স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতেই ওই রাতে সমাবেশ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়