উত্তম চক্রবর্তী,রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট গুলো যেন নিষিদ্ধ ট্রাক্টর ও ট্রলির দখলে! উপজেলার সর্বস্তরের গ্রামীণ সড়কে এসব যানগুলো সারাদিনই বেপরোয়া ভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যন্ত্রদানব এ যানগুলোর দিয়ে মাটি বহনে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বেপরোয়া গতি ও কানফাটা আওয়াজে চলাচলকারী ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে শব্দ দূষণ। অবৈধ এ যানগুলোর প্রতি স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া অতি জরুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- এসব যানবাহনে নেই কোন বৈধ কাগজপত্র ও রোড পারমিট। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় এসব যানবাহন চলাচলের কাজে নিয়োজিত রয়েছে ১৩-১৪ বছর সহ অপ্রাপ্ত বয়সের শিশু-কিশোর। ফলে এসব অবাধে চলাচলের সুযোগ পাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে- কয়েক দিন ধরে একটানা বর্ষা রাজগঞ্জ শ্মশান মোড়সহ বিভিন্ন অঞ্চলের পিচে রাস্তায় কাঁদা মাটি ফেলে বেহাল অবস্থা। পাকা রাস্তায় কাঁদা অবস্থায় ফেলে রাখেছে। রাস্তার দৃশ্যটি। উপজেলার রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে- পাড়া-মহল্লা ও গ্রামীণ এলাকার সংযুক্ত সড়ক গুলোতেও দিনের বেলায় চষে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ ট্রাক্টর ও ট্রলি। গ্রামীণ সড়কের চলাচলকারী এবং রাস্তার পাশে বসবাসকৃত জনসাধারণ অবৈধ ট্রাক্টরের জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোড পারমিট বিহীন ট্রাক্টর ও লাইসেন্স বিহীন চালকের কারণে দোকান পাট, রাস্তা-ঘাটের চলাচলকারী মানুষকে সার্বক্ষনিক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। ট্রাক্টরগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব ট্রাক্টর ও ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে রাস্তা-ঘাট ভেঙে যেতে পারে। এ বিষয়ে পথচারীদের সাথে কথা বললে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- রাস্তায় চলাচলের সময় রাস্তা কাঁপতে থাকে। রাস্তার বেহাল দশা করেছে এই দৈত্যাকৃতির ট্রলি। রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে একটানা বৃষ্টি পিচে রাস্তা দিয়ে হেটে চলাচল করা যাচ্ছে না। পিচে রাস্তার পরে কাঁদা আর কাঁদা। ট্রলি চালক এই প্রতিবেদককে বলেন- আমরা ভাড়াটিয়া চালক। আমাদের নিজের গাড়ি নেই, কোন রেজিস্ট্রেশনও নেই। মানুষ তাদের মাটি, গাছসহ বিভিন্ন মালামাল আনা নেয়ার জন্য আমাদের কাছে আসে।আমরা টাকার বিনিময়ে তাদের কাজ করে দেই। এবিষয়ে পথচারীরা আরো বলেন- যারা এ ধরণের গাড়ি চালায় তাদের অনেকেই অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ক। এদের মধ্যে ১০/১৫ বছরের কিশোর ছেলেও রয়েছে। এসব চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত না হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে জেনেও না মানায় তাদের দ্বারা অনেক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব ট্রাক্টরগুলোর বেপরোয়া অবাধ চলাচল বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।
