১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কালীগঞ্জের ডবল মার্ডারের আসামি সন্ত্রাসী ঘেনা পিস্তলসহ যৌথবাহিনী হাতে আটক

সোহেল আহমেদ, কালিগঞ্জ
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের জামাল ইউনিয়নের দুই ভাই মহব্বত ও শুকুর আলী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি, উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ত্রাস ঘেনা বাহিনীর প্রধান বাবলুর রহমান ওরফে ঘেনাকে বিদেশি পিস্তল সহ আটক করেছে যৌথ বাহিনী । সে গোপালপুর গ্রামের মসলেম ওরফে কাজী মোল্লার ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ৯ টা সময় দুধরাজপুর গ্রামের মালিপাড়ায় চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিল । এ সময় বিদেশি পিস্তল সহ যৌথ বাহিনী তাকে আটক করে। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচাজ জানায় ঘেনার বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক দ্রব্য, চাঁদাবাজি সহ একাধিক মামলা আছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আগামী রবিবার কোটে আবেদন জানানো হবে বলে তিনি জানান। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গোপালপুর গ্রামের কাজী মোল্লা ছেলে বাবলুর রহমান ওরফে ঘেনার উত্থান শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল মান্নান এর হাত ধরে সে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পদার্পণ করেন এবং তার চাচা মালেক মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রামে একটি সামাজিক দল তৈরি করেন। এইভাবে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের আনারুল আজিম আনার এমপি নির্বাচিত হলে, আনারের ডাকে সাড়া দিয়ে আব্দুল মান্নান গ্রুপ ত্যাগ করে আনার গ্রুপে যোগদান করেন। সে বিভিন্ন গ্রামের সন্ত্রাসীদের নিয়ে আধিপত্য, চাঁদাবাজি, মারামারি সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং কালীগঞ্জের মানুষের কাছে ঘেনা বাহিনী নামে পরিচিত লাভ করে। আওয়ামী লীগের পতন হলে সে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে বিএনপির লোভিং গ্রুপিং শক্তিশালী করার জন্য এবং জামাল ইউনিয়ন দখলে রাখার প্রয়োজনে বিএনপির এক গ্রুপ তার দলে ভিড়িয়ে নেয় । সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্থানীয় নির্বাচনে মাঠ দখলে নেওয়ার শুরু হয় । এক পর্যায়ে গত পয়লা জুন জামাল ইউনিয়নের সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রুপের উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারিতে দুই ভাই বিএনপি’র নেতা মহব্বত ও শুকুর আলী খুন হয় । এরই প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই বিএনপি’র হামিদ গ্রুপের উদ্যোগে বিএনপি’র নেতা মহব্বত ও শুকুর আলী হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও চাঁদাবাজি বন্ধ দাবিতে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় এবং বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংক্ষিপ্ত সবায় নিহত মহব্বতের কন্যা বাব চাচার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে হাজারো মানুষের সামনে কান্নাকাটি করে। তার কান্নাকাটিতে স্তব্ধ হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। রাজনৈতিক বিবেচনায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে সে এলাকায় অবস্থান করছিল কিন্তু মহব্বতের মেয়ের কান্নাকাটির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যৌথ বাহিনী তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়