নিজস্ব প্রতিবেদক
জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খানসহ ৬জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যশোর সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পৃথা খান পারুল আদালতে মামলা দায়ের করেছে।মামলায় আসামীরা হলেন- সদর উপজেলার কচুয়া নন্দীঘাটা গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খান, তার ছেলে মেহেদী খান, আসাদ খানের ছেলে তাজু খান,মৃত কাশেম আলী খানের ছেলে আয়ুব খান ও সুমন খান। মামলার বিবরণে জানা যায়, নালিশী সম্পত্তিটি মূলত দুই ভাই-মৃত সলেমান খান ও মৃত পাঞ্জু খানের দখলে ছিল। সলেমান খান মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র সোনা খান ও মনোয়ার খান এবং পাঞ্জু খান মৃত্যুকালে তার একমাত্র কন্যা মকরুন নেছাকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান। মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, পাঞ্জু খানের কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় তার সম্পত্তিতে ভাইয়ের সন্তানদেরও অংশ প্রাপ্তির বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আর.এস. রেকর্ডে সোনা খানের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়। সোনা খান মৃত্যুবরণ করলে তার একমাত্র পুত্র মোঃ হাফিজুর রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। তিনি জীবিত অবস্থায় ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২০৫০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে পুত্র আব্দুল কাদের ও শিমুল খান, কন্যা রুবা খাতুন ও পৃথক খান পারুলদের মধ্যে হেবা হিসেবে সম্পত্তি বণ্টন করেন। ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিল এবং সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছে। এছাড়া জমিতে পারিবারিক কবরস্থানসহ বিভিন্ন বৃক্ষ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীপক্ষ লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাদীপক্ষ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বিবাদীরা ভবিষ্যতে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছে। মামলার শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খানের বিরুদ্ধে আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে অবসরে যাওয়া আবুল হাসেম খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকে মামলা চলমান।

