২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

এশিয়া-প্যাসিফিকে ম্যানেজড ক্লাউড পরিষেবার বাজার ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে

প্রতিদিনের ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের গতি বাড়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ম্যানেজড ক্লাউড পরিষেবার (এমসিএস) বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের গতি বাড়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ম্যানেজড ক্লাউড পরিষেবার (এমসিএস) বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো হাইব্রিড ও মাল্টিক্লাউড পরিবেশে কাজের পরিধি বাড়ানোয় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৮ সালের মধ্যেই এশিয়া-প্যাসিফিকে এমসিএসের বাজার আয়তন ২২ বিলিয়ন (২ হাজার ২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)।
ম্যানেজড ক্লাউড পরিষেবা বলতে বোঝায় এমন সেবা, যেখানে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের ক্লাউডভিত্তিক কাজ পরিচালনার জন্য তৃতীয় পক্ষের (যেমন ক্লাউড সেবাদাতা কোম্পানি) সহায়তা নেয়। এর মাধ্যমে ডাটা সংরক্ষণ, সফটওয়্যার চালানো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো কাজগুলো প্রতিষ্ঠান নিজ থেকে না করে সেবাদাতা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করানো হয়। এতে ব্যবসার খরচ ও জটিলতা কমে আসে।আইডিসির ‘এশিয়া/প্যাসিফিক ম্যানেজড ক্লাউড সার্ভিসেস মার্কেট ফোরকাস্ট, ২০২৪-২০২৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এমসিএসের বাজার ছিল ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারের। ২০২৮ সালের মধ্যে এ অংক বেড়ে পৌঁছাবে ২ হাজার ২৬০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এ সময়ে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) দাঁড়াবে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এমসিএসের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল উপখাত হলো ম্যানেজড পাবলিক ক্লাউড পরিষেবা (এমপিসিএস)। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এর সিএজিআর পৌঁছবে ২২ দশমিক ১ শতাংশে। এরপর থাকবে হাইব্রিড ক্লাউড পরিষেবা, যেখানে একাধিক পাবলিক ও প্রাইভেট ক্লাউডের সমন্বয়ে কাজ হয়। এ খাতের সিএজিআর দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে।আইডিসি বলছে, এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৮৯ শতাংশ কোম্পানি একাধিক পাবলিক ক্লাউডে কাজ পরিচালনা করছে। ৭২ শতাংশ কোম্পানি হাইব্রিড মডেলে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও পাবলিক ক্লাউডের সমন্বয়।বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই বা জেনএআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউডভিত্তিক কাঠামোর ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা ও পাইলট প্রকল্প চালাতে পাবলিক ক্লাউডকেই সবচেয়ে উপযুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে। এতে পাবলিক ক্লাউড ব্যবহারে নতুন করে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
তবে খাতটির দ্রুত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আইডিসির ‘এশিয়া/প্যাসিফিক আইটি অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিসেস সোর্সিং সার্ভে, ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রত্যাশামতো কাজ না পাওয়া ও সেবা সরবরাহকারীদের জটিলতা।আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা বিভাগের সহযোগী পরিচালক পুষ্করাক্ষ শানভাগ বলেন, ‘মাল্টিক্লাউড ও হাইব্রিড ক্লাউড এখন ডিজিটাল অবকাঠামোর অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। নিরাপদ, সহজে সম্প্রসারণযোগ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমর্থ প্রযুক্তি পরিবেশ গড়তে হলে ম্যানেজড ক্লাউড সেবাদাতার প্রয়োজন, যারা এ জটিল কাঠামো দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও হাইব্রিড প্রযুক্তির সমন্বয় এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো আরো দক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, খরচ কমাবে ও নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করবে। ফলে ভবিষ্যতে এশিয়ার অর্থনীতি অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়