২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোল খুলনা মোংলাগামী ট্রেনে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি

আনিছুর রহমান, বেনাপোল
বেনাপোল খুলনা মোংলাগামি কমিউটার ট্রেনে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে চাঁদাবাজি। সকাল- বিকাল দুই বার বেনাপোল থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় কখনো ট্রেনের বাইরে কখনো ট্রেনের ভিতরে উঠে চাঁদাবাজরা চাঁদা তোলে। আর চাঁদা না দিলে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে; অথবা ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না এমনটি অভিযোগ করেছে কয়েকজন নারী যাত্রী। রোববার সকাল ৯.১৫ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় মোংলাগামী কমিউটার ট্রেনে উঠে ষাটর্দ্ধো এক লোক। ২ নং বগির পশ্চিমপাশ থেকে ওই লোক মুখ চিনে চিনে টাকা উঠাতে আসে পুর্ব দিকে। তখন মেহেরুন নামে এক নারীর কাছে টাকা চায় এবং সে ৫০ টাকা দিলে তার সাথে আরো টাকার জন্য কথা কাটাকাটি হয়্ পাশে থাকা আরো তিন চার জন যাত্রীর নিকট থেকে এভাবে সে টাকা এর আগে নিয়ে নেয়। মেহেরুন এর সাথে কথা কাটাকাটির সময় এ প্রতিনিধির সন্দেহ হয় । তখন কিসের টাকা এটা জানতে চাইলে ওই বয়স্ক লোকটা বলে এদের কাছে আমার টাকা দাদন দেওয়া আছে সেই টাকা বলতে বলতে চলে যায়। বিষয়টি মেহেরুন এর কাছে ভালো ভাবে জানতে চাইলে বলে ভাই আমরা যশোর থেকে প্রতিদিন বেনাপোল আসি। এবং এখানকার দোকান থেকে কিছু ভারতীয় খাদ্র দ্রব্য যশোর নিয়ে বিক্রি করি। এর জন্য এদের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে এরা আমাদের ট্রেনে উঠতে দেয় না। আবার ট্রেনে উঠলে নামিয়ে দেয়। জিআরপি পুলিশকে অবগত করানো হয়েছে কিনা একথা শুনে পাশে থাকা আরো তিন চারজন নারী চিৎকার করে উঠে বলে তারাকি সাধু; তারাও টাকা নিয়ে থাকে। এসব নারীদের ছবি তুলতে গেলে তারা বাধা প্রদান করে বলে আমাদের ছবি দিলে ওরা আমাদের ট্রেনে উঠতে দিবে না। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে ছেলে মেয়ে নিয়ে। মেহেরুন এর সাথে থাকা নারীরা বলেন আপনারা দেখবেন প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোষ্টে দুর দুরান্ত থেকে নারীরা আসে অভাব অনটনের জন্য। এরা প্রতিদিন এ ভাবে সকাল বিকাল খুলানগামী ট্রেনে যে সব পণ্য নিয়ে যায় তার বিনিময় চাঁদা দিয়ে থাকে। খুলনা থেকে আসা কামরুন নাহার নামে এক যাত্রী বলেন, এসব লোক স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়োগ করা। তা না হলে এরা সরকারী লোকের সামনে কি ভাবে টাকা তোলে। তাৎক্ষনিক বেনাপোল ষ্টেশন মাস্টারকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, আমার এসব জানা নেই। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে জিআরপি পুলিশ ট্রেনে আছে তাদের জানান। জিআরপি পুলিশ ও এদের নিকট থেকে টাকা নেয় এরকম অভিযোগ করছে এসব নারীরা এমন কথা শুনে স্টেশন মাস্টার সাইদ বলেন এটাও আমার জানা নেই। নাভারন ষ্টেশন ছাড়ার পর আসে টিটি তাকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন আমরাতো এসব জানা নেই। আপনি যখন বললেন আমি বিষয়টি দেখব। টিটি চলে যাওয়ার পর ওইসব নারীরা জানায় টিটিও জানে। এত নিত্য দিনের ঘটনা উনারা জানে। বেনাপোল স্টেশন এর দায়িত্বে থাকা জি আরপি পুলিশের এস আই আমিনুর হক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাত্র ২০ দিন এসেছি। নতুন মানুষ। এরকম ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়