প্রতিদিনের ডেস্ক
বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইউটিউব। ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৮৭০ কোটি ডলার।বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইউটিউব। ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। এক বছরে প্লাটফর্মটির বিজ্ঞাপন আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
এর আগে ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিজ্ঞাপন থেকে ইউটিউবের প্রায় ৯৬০ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন আর্থিক বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির আয় পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ইউটিউব টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বাজারে বড় অংশ দখলের চেষ্টা করে আসছে। কারণ ইউটিউব আগে শুধু ফোন বা কম্পিউটারে দেখা হতো, কিন্তু এখন অনেকেই টিভিতে ইউটিউব দেখছেন। ফলে টিভি দর্শকের ভেতরেও ইউটিউবের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টানা তিন মাস মানুষ যে পরিমাণ সময় টিভি দেখেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ইউটিউবে। দর্শকের মোট টিভি দেখার সময়ের ১২ দশমিক ৪ শতাংশই কাটে ইউটিউবে।
পাশাপাশি এইচবিও ম্যাক্স ও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোও এখন বিজ্ঞাপন কৌশল জোরদার করছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রচারের হার বাড়িয়েছে, যাতে দর্শক সংখ্যা ও আয় বৃদ্ধি পায়। অনেকে মনে করছেন নেটফ্লিক্সও এখন ইউটিউবের জন্য একটি বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠছে।
নেটফ্লিক্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই বিজ্ঞাপন থেকে আয় দ্বিগুণ করতে চায় কোম্পানিটি। যদিও প্লাটফর্মটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক আয়ের পরিমাণ প্রকাশ করেনি, তবে এ সংখ্যা প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ম্যাডিসন অ্যান্ড ওয়াল।সামগ্রিকভাবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে অ্যালফাবেট। প্রতিষ্ঠানটি এ সময় মোট আয় করেছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
ইউটিউবের ইতিহাস বলছে, টেক জায়ান্ট গুগলের ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মটির প্রথম ভিডিও প্রকাশ হয় ২০০৫ সালের এপ্রিলে। ১৯ সেকেন্ডের ঝাপসা একটি ক্লিপে দেখা যায়, সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় দাঁড়িয়ে ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ জাওয়াদ করিম কিছুটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হাতিদের পরিচয় দিচ্ছেন। ধীরে ধীরে প্লাটফর্মটি জনপ্রিয় হতে থাকে। চলতি বছর দৈনিক ১১ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে ২০ বছর পূর্ণ করে তৃতীয় দশকে পদার্পণ করল ইউটিউব। পাশাপাশি প্লাটফর্মটির পডকাস্টের মাসিক দর্শক সংখ্যাও সম্প্রতি ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর প্রায় ৪৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি মাসে অন্তত একবার বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজিটাল মিডিয়া সাইটটি পরিদর্শন করেছে। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভারতীয়রা। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল।
এদিকে নির্মাতাদের জন্য কনটেন্ট তৈরিকে আরো সহজ ও কার্যকর করতে নতুন নতুন টুল চালু করার পরিকল্পনা করছে প্লাটফর্মটি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় ভিডিও ডাব করার সুযোগও দিচ্ছে ইউটিউব, ফলে বিশ্বব্যাপী প্লাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে মনে করছেন অনেকে।

