এমএম কলেজ কোরআন শরীফ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করলো শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রকাশ্যে নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠান করেছে যশোর সরকারি এমএম কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। এতে এমএম কলেজের অনাস প্রথম বষ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শ’ নবীন শিক্ষার্থীকে পবিত্র কোরআন ও বিশেষ উপহার দিয়ে বরণ করা হয়। সোমবর( ১১আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটায় কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এমএম কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি রাসেল ফারহান উদ্বোধনী বক্তব্যে রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক ও কাযকরী পরিষদের সদস্য আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক সভাপতি এবং চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মসলেহউদ্দিন ফরিদ, কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ও কাযকার পরিষদের সদস্য ফকরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কাযকার পরিষদের সদস্য ও যশোর শহর শাখার সভাপতি কেএম আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক ও কাযকরী পরিষদের সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে তরুনরা মাত্র ৩৬ দিনে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের সাম্রাজ্য ধুলায় মিশায়ে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। বিগত সৈরাচার সরকার ছাত্র শিবিরের সকল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে । তারা ছাত্র শিবিরকে হত্যা করাকে জায়েজে পরিনত করেছিলো। সকল ক্যাম্পাসে সৈরাচারী গোষ্ঠী ছাত্র শিবিরকে আতঙ্কের নামে পরিনত করেছিলো । ছাত্র শিবির সব সময় মেধাবীদের মূল্যায়ন করে থাকে। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে বিগত সৈরাচার সরকার মেধাবীদের মূল্যায়ন করে নাই। ০৫ ই আগস্ট পরবর্তী জেন জি শপথ নিয়েছে আগামীতে মেধাবীরাই রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালনা করবে । ছাত্র শিবির ৫ আগস্ট পরবর্তী কোন চাঁদাবাজি করে নাই, টেম্পু স্ট্যান্ড দখল করে নাই। ছাত্র শিবির ছাত্র বান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ছাত্র শিবির শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় নাই, ছাত্র শিবির কলম তুলে দিয়েছে। ছাত্র শিবির এই চেতনাকে ধারন করে তাদের কার্যক্রম করে যাচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক সংগঠন আছে যারা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। তিনি আরও বলেন, বিকৃত আদর্শিক বাম শক্তি গুলো দেশের শত্রু। এদেরকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে, তা নাহলে দেশ বিপথে চলে যাবে। তরুনরা বিকৃত আদর্শ গ্রহন করতে চায় না। ছাত্র শিবির শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র মাদক তুলে দিতে চায় না। কেও যদি এগুলো প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে তাহলে ছাত্র শিবির শক্ত হাতে মোকাবেলা করবে। ক্যাম্পাস গুলো রাজনৈতিক ভাবে সচেতন থাকলে বাংলাদেশকে আর বিপথে নেওয়া যাবে না। শহীদদের আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাবো। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ। ইসলামী ছাত্র শিবির সৎ যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই, সে লক্ষ্যেই ছাত্র শিবির কাজ করে যাচ্ছে । মূর্খদের আমরা আর রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখতে চায় না, যাদের দেশ পরিচালনার কোন যোগ্যতাই নাই। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুনরা রাজনৈতিক ভাবে সচেতন। যা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের সহায়ক হবে। তরুনরা জাগ্রত থাকলে আগামী ৫০ বছরেও এদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদী শক্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। এজন্য আমাদের সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে, সময়কে গুরুত্ব না দিলে আমরা পিছিয়ে পড়বো। এমএম কলেজ শাখার সভাপতি রাসেল ফারহান তার বক্তব্যে তরুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নৈতিক পদস্খলন না ঘটিয়ে সংযত থেকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে। পতিত সৈরাচারে সরকারের কতিপয় পুলিশ অফিসার ডিবি হারুন, বেনজির আহমেদ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তাদের ভিতরে নৈতিকতা ছিলো না। দেশের জন্য তারা কল্যানকর কিছুই বয়ে আনতে পারি নাই। তারা সৈরাচারের পক্ষ নিয়ে দেশের মানুষের ক্ষতি করেছে। তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছায়াতলে আসার আহবান জানান। ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে গবেষণা করতে বলেন, যাতে ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা দূর হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়