১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ও কমিটি নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর নির্বাচন ও কমিটি গঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ রয়েছে, একটি গোষ্ঠী লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে ১৫ সদস্যের তথাকথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছে। এ কমিটির নেপথ্যে রয়েছেন সাজেদুর রহমান অপু নামের এক যুবক, যিনি হয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। অথচ তিনি গত দুই বছর ধরে তার প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করেননি। শুধু তিনিই নন, নবগঠিত কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদসহ অধিকাংশ সদস্যই পৌরসভার নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা চালাচ্ছেন। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, যশোর পৌর এলাকায় অনুমোদিত ১৭টি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করেছে। বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই দুই থেকে তিন বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। পৌরসভার তালিকা ও নবগঠিত কমিটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভাপতি হারুন অর রশিদ, যিনি মূলত ফুল ব্যবসায়ী, তার কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লাইসেন্স নেই। সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান অপু, ‘৩৬০ ডিগ্রি ইভেন্ট প্ল্যানার্স’-এর মালিক, দুই বছর আগে লাইসেন্স করেছিলেন; তবে নবায়ন করেননি। কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে তিনজনের পুরনো ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও সেগুলো নবায়ন হয়নি। বাকিদের পৌরসভার নথিতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে কোনো রেকর্ড নেই।
ঘোষপাড়ার রূপশ্রী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মালিক প্রীতিলতা সাহা, বেজপাড়ার ওয়েডিং গাইডের মালিক আরাফাত হোসেন, জাস সাউন্ড অ্যান্ড ইভেন্টের মালিক সুজন কুমার রায়, জয়যাত্রা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মালিক সুজনসহ যশোরের প্রথম সারির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের অজ্ঞাতসারে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ভূঁইফোড় একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সংগঠনের নাম ভাঙাচ্ছে। কেউ ফুল ব্যবসায়ী, কেউ ডেকোরেটরের কাজ করেন, আবার কারও নেই অফিস, এরকম লোকজনকে নিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গ্রাহকেরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং প্রকৃত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন। কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বীকার করেন যে, তার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লাইসেন্স নেই। তিনি বলেন, আমি মূলত ফুল ব্যবসায়ী। দুই বছর আগে ইভেন্ট ব্যবসা শুরু করেছি। তবে লাইসেন্স করা হয়নি। ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স করতে বলা হবে। সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান অপু বলেন, হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৌরসভা থেকে তালিকা সংগ্রহ করা উচিত ছিল, সেটা হয়নি। ভুলবশত অন্য ব্যবসায়ীদের রাখা হয়েছে, তাদের বাদ দেওয়া হবে। যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, সাধারণ ব্যবসা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; নবায়ন ফিও আলাদা। সাধারণ ব্যবসার আড়ালে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চালানো অবৈধ। কেউ যদি এভাবে কাজ করে থাকে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যশোরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও কমিটি গঠনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের বাইরে রেখে একাংশ ব্যবসায়ীর স্বার্থে গঠিত এ কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পৌরসভার কঠোর নজরদারি ও বৈধ ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া এ সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়